৭৫ দেশের ওপর ট্রাম্পের ভিসা নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা

আবারও বড় ধরনের হোঁচট খেলো ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি। ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত অভিবাসন ভিসা নিষেধাজ্ঞা এক ঐতিহাসিক রায়ে বাতিল করে দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত। ম্যানহাটনের আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের নেয়া এই নীতি সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনি এখতিয়ারের বাইরে।

গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ দেশের ওপর ভিসা স্থগিতাদেশ জারি করে। এর মধ্যে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, মিশর, হাইতি, সোমালিয়া ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এই দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সাহায্য বা ‘ওয়েলফেয়ার’-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।

US Visa 02
তবে নিউইয়র্কের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জিনেট ভারগাস প্রশাসনের যুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। মার্কিন আইন অনুসারে, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হবেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার ব্যক্তির নিজস্ব অর্থনৈতিক অবস্থা, বয়স, স্বাস্থ্য, দক্ষতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করবেন। বিচারক পর্যবেক্ষণ করেন, বাস্তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের কোনো ব্যক্তিগত আবেদন না দেখেই কেবল নাগরিকত্বের ভিত্তিতে ভিসা প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বিচারক ভারগাস তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জারি করা নির্দেশিকায় কর্মকর্তাদের স্পষ্ট বলা হয়েছিল যেন আবেদনকারী নিজের আর্থিক সক্ষমতার অতিরিক্ত প্রমাণ দেখালেও ভিসা বাতিল করা হয়। বিচারকের মতে, এটি ১৯৬৫ সালের মার্কিন আইনের সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসায় বৈষম্য করা নিষিদ্ধ। ব্যক্তিগত কেসগুলোতে কনস্যুলার অফিসাররা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, সে বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল পরিবারভিত্তিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। ট্যুরিস্ট বা স্টুডেন্ট ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি এর আওতামুক্ত ছিল।

US Visa 03
আন্তর্জাতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া:
যেসব দেশের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই অ-ইউরোপীয়—যার মধ্যে রয়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চল, সাব-সাহারান আফ্রিকা, বলকান, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এর মধ্যে জর্ডান, মিশর ও জর্জিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশও ছিল। জর্ডান, গুয়াতেমালা, ঘানা ও কলম্বিয়ার ভুক্তভোগী পরিবার ও চাকরিপ্রার্থীরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, যা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ওপর তৎকালীন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছিল। তবে বিচারক ভারগাস জানান, তৎকালীন মামলাটি ছিল দেশে কারা প্রবেশ করতে পারবে সেই সম্পর্কিত, আর বর্তমান মামলাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন—যেখানে মূল প্রশ্ন হলো ভিসা পাওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে কি না।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কঠোরতার বিরুদ্ধে এক বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলাটির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন