আবারও আব্বাসের নিউইয়র্ক সফর আটকে দেয়া পরিকল্পনা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন ৮১তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের যোগদান আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বার্ষিক সম্মেলনে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে এই কূটনৈতিক বিধি-নিষেধের ছক কষা হচ্ছে।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ৮১ বছর বয়সী মাহমুদ আব্বাসের। 'দ্য টাইমস অব ইসরাইল' এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে আঙ্কারা সফরকালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের কাছে এ নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা জানান মাহমুদ আব্বাস এবং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে মধ্যস্থতার অনুরোধ জানান।

Mahmud Abbas 2
পরে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে টেলিফোনে কথা বললেও ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তারা পাননি। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী স্বাগতিক দেশ হিসেবে কূটনীতিবিদদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা।

অতীতেও রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদলের ভিসা জটিলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দুজারিক জানান, জাতিসংঘ সচিবালয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ নিয়ে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তারা সদর দফতর চুক্তির বাধ্যবাধকতাকে গুরুত্ব সহকারেই বিবেচনা করে, তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বিধিনিষেধ আরোপের পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে।

Mahmud Abbas 3
এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল। দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের লক্ষ্যে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ সভাপতিত্বে আয়োজিত এক সম্মেলনের ঠিক মুখে মাহমুদ আব্বাসসহ পিএলও ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শীর্ষ নেতাদের ভিসা বাতিল করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এ ধরনের সম্মেলন হামাসকে পুরস্কৃত করবে এবং গাজায় যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

গত বছর সরাসরি উপস্থিত হতে না পারায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১৪৫-৫ ভোটে প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে মাহমুদ আব্বাসকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ বছরও মাহমুদ আব্বাসের সশরীরে উপস্থিতি ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসন একই পথেই হাঁটছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাগতিক ভূমিকার নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।