যুক্তরাষ্ট্রে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শিকার কসোভোর 'ডাবল এজেন্ট'

ওসামা বিন লাদেনকে খোঁজা থেকে শুরু করে আল-কায়েদা ও আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর ভয়াবহ সব নাশকতামূলক পরিকল্পনা নস্যাৎ, প্রতিটি মিশনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র হয়ে নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু টানা এক দশক আমেরিকার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করার পরও মেলেনি প্রতিশ্রুত স্থায়িত্ব। উল্টো ৫৫ বছর বয়সী ব্লেরিম স্কোরোকে হাতকড়া পরিয়ে নাজেহাল করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)।

বর্তমানে তিনি নিউ জার্সির আটক কেন্দ্রে প্রহর গুনছেন দেশান্তরের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দুর্ধর্ষ সাবেক গোয়েন্দার করুণ পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।

Blerim Skoro 06
১৯৯৪ সালে যুগোস্লাভ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছিলেন স্কোরো। পরবর্তীতে পেনসিলভানিয়ার একটি কারাগারে সাজা খাটার সময়, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পরদিনই তাকে নিয়োগ করে সিআইএ। কসোভোর মুসলিম হওয়ায় এবং ধর্মীয় ও সামরিক জ্ঞান থাকায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোতে অনুপ্রবেশের জন্য তাকেই সেরা মনে করেছিলেন মার্কিন এজেন্টরা।

পরবর্তী এক দশকে আল-কায়েদার অস্ত্র চালানের তথ্য ফাঁস, পাকিস্তানের আল-কায়েদা ক্যাম্পে অনুপ্রবেশ, ইউরেনিয়ামের চালান আটকানো এবং সিরিয়া ও বলকান অঞ্চলে আইসিসের ছক ভেস্তে দেয়ায় মুখ্য ভূমিকা রাখেন স্কোরো। ২০১০ সালে মেসিডোনিয়ার সিআইএ সেফ হাউসে আততায়ীদের গুলিতে তিনি আহতও হন। সিআইএ তাকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত রাখা হয়নি।

Blerim Skoro 05
কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের কনভেনশনের অধীনে কসোভোতে ফেরত পাঠানোর ওপর স্থগিতাদেশ পান স্কোরো। এরপর থেকে প্রতি বছর ট্যাক্স জমা দিয়ে ড্রাইভার হিসেবে সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজ করে পরিবার চালাচ্ছিলেন তিনি।

চলতি বছরের ৩ আগস্ট নিউ জার্সিতে কাজের অনুমতিপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে তাকে হঠাৎ গ্রেপ্তার করে আইস কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে একজন আন্তর্জাতিক মানের

Blerim Skoro 03
কারাগার থেকে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে স্কোরো বলেন, আমি সিআইএ’র হয়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে কাজ করেছি, আর এখন হাতকড়া পরা অবস্থায় কারাগারে। তারা আমার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করল। এটি প্রমাণ করে, আমেরিকা কাউকে সুরক্ষা দেয় না। এই ঘটনা সিআইএ’র হয়ে কাজ করতে চাওয়া অন্যদের কাছে ভুল বার্তা দেবে।

বর্তমানে নিউ জার্সির ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে স্কোরোর আইনজীবীরা অবিলম্বে মুক্তি ও হস্তান্তরের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করেছেন। কারণ, বিপজ্জনক জঙ্গি নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের ইতিহাসের কারণে অন্য কোনো দেশে পাঠানো হলে তাকে সরাসরি হত্যা করা হতে পারে।

সিআইএ’র জন্য অসামান্য অবদান রাখার পর জীবনের এই অপরাহ্ণে এসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিচার ও সুরক্ষার আকুল আর্জি জানিয়েছেন এই সাবেক স্পাই।