ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত এবং পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদচ্যুত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান সেনেটর থম টিলিস। গত সোমবার হেগসেথের সঙ্গে চরম বিরোধের জের ধরে আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে তৈরি হওয়া গভীর ‘নেতৃত্বের শূন্যতা’ তুলে ধরে তিনি এই দাবি জানান।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় উত্তর ক্যারোলিনার এই সেনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের তীব্র সমালোচনা করেন। অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা ড্যান ড্রিসকলের দক্ষতার প্রশংসা করে টিলিস লেখেন, যোগ্য নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ পেন্টাগনকে সাংস্কৃতিক যুদ্ধের আবর্তে আটকে রেখেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তন যেখানে স্পষ্ট, সেখানে হেগসেথের মতো অপ্রস্তুত নেতৃত্বের কারণে সেনাবাহিনী দক্ষ কর্মকর্তাদের হারাচ্ছে।
রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগুলোর কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন থম টিলিস। যদিও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালে হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদনের ভোটে তিনি সমর্থন জানিয়েছিলেন, তবে বর্তমানে প্রতিরক্ষা বিভাগে হেগসেথের নেওয়া বিতর্কিত নীতিগুলো নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই সেনেটর।
পেন্টাগনে যোগ দেওয়ার পর থেকে হেগসেথ ‘ওক সংস্কৃতি’ বা উদারনৈতিক আদর্শ দূর করার নামে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত, পদোন্নতি স্থগিতকরণ এবং ট্রান্সজেন্ডার সেনাসদস্যদের বহিষ্কারসহ নানা বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ সপ্তম মাসে পা রাখলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াশিংটন। এতে পেন্টাগনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে, যা ভবিষ্যতের সামরিক সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের কারণে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তায় চরম ধস নেমেছে। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নাগরিকই এই যুদ্ধের বিপক্ষে। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পেন্টাগনে যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিচ্ছেন মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা।