হরমজু থেকে থাই বন্দরে জংধরা সেই মার্কিন রণতরী

টানা কয়েক মাস হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যে রণসংযোগে থাকার পর থাইল্যান্ডের লাম চাবাং বন্দরে এসে নোঙর করেছে মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'। তবে সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করা রণতরীটি স্বাভাবিক চেহারায় ছিল না; সংঘাতময় এলাকায় ২৮৬ দিন সাগরে থাকার ফলে প্রায় ১,১০০ ফুট দীর্ঘ এই সুবিশাল রণতরীর পুরো বডি বা হালজুড়ে ক্ষয়িষ্ণু মরিচা ও জংয়ের দাগ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিশন শেষে বুধবার থাইল্যান্ডের এই বন্দরে এসে পৌঁছায় যুদ্ধজাহাজটি। নেভাল বিশেষজ্ঞরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক ও অবরোধ অভিযানে অংশ নেওয়ার পর এমন চিত্র দেখা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার সিএনএনকে বলেন, সাগরে ৬০ দিনের বেশি অপারেশনে থাকলে পানির উপরিভাগের অংশে মরিচা ধরা স্বাভাবিক। যুদ্ধকালীন বা সাগরে ভাসমান অবস্থায় এই মরিচা তোলা অসম্ভব, কারণ এর জন্য শ্রমিকদের ঝুলিয়ে জং পরিষ্কার করা, ডাবল প্রাইমার ও নৌ-ধূসর রংয়ের প্রলেপ দিতে হয়। তিনি জানান, রণতরীটির সব জং বা মরীচা দূর করে আগের রূপ ফেরাতে অন্তত ৩০ দিনের মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ প্রয়োজন।

USS Abraham Lincoln 2
থাইল্যান্ডের থাই উপসাগরীয় লায়েম চাবাং বন্দরে জাহাজটির এই বিরতি দীর্ঘ ও পরিশ্রান্ত সাধ্য অভিযানের পর নাবিকদের প্রথম মানসিক ক্লান্তি দূরীকরণের সুযোগ করে দেবে। কয়েক দিনের সংক্ষিপ্ত এই সফরে কেবল সবচেয়ে জরুরি অংশগুলোর মেরামত সম্পন্ন করা হবে। ক্যাপ্টেন শুস্টার জানান, জাহাজের সামনের অংশ ও ধনুকাকৃতির অংশটি পানির তোড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রথমে সেই অংশের মরিচা অপসারণের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তবে রণতরীর বাইরের এই মরিচা ও ক্ষত শুধু শারীরিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। টানা মিশন, প্রয়োজনীয় রসদ ও খাবার সরবরাহে ঘাটতি এবং অন্তত একজন নাবিক সাগরে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাজের সেনাসদস্যদের মনোবল মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ার খবর সামনে এসেছে। এত কিছুর পরেও সব উদ্বেগ ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।