নিউইয়র্কে প্রথমবার মেয়র মামদানির বাসভবনে ট্রাম্প

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নগরীর মেয়র জোহরান মামদানির সাথে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে আয়োজিত এই বৈঠকে নিউইয়র্ক শহরের আবাসন সংকট, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মেয়র মামদানির মধ্যে এটি তৃতীয় মুখোমুখি সাক্ষাৎ হলেও নিউইয়র্ক শহরে এটিই তাদের প্রথম বৈঠক। এর আগে উভয় নেতা হোয়াইট হাউসে দুটি বৈঠক করেছিলেন, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল শহরের নতুন আবাসন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন।

ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে মেয়র জোহরান মামদানি জানান, নিউইয়র্কবাসীদের জন্য আবাসন খরচ কমানো এবং নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল কুইন্সের 'সানিসাইড ইয়ার্ডস' পুনর্বাসন ও উন্নয়ন প্রকল্প।

Mamdani-Trump 03
এই বিশাল রেল-ইয়ার্ড উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার নতুন ঘর তৈরি এবং ৩০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন, সানিসাইড ইয়ার্ডস প্রজেক্টটি কয়েক দশক ধরে আলোচনার টেবিলে আটকে আছে, যা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ও বড় অঙ্কের অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো আবাসন উন্নয়নের একটি বড় অংশ অবশ্যই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর সাশ্রয়ী বাসস্থানের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হলো, কারণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে ট্রাম্প বর্তমানে নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

Mamdani-Trump 02
মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের এবং সেখানে তিনি একাধিক বিশ্বনেতার সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন। রাজনৈতিক আদর্শগত দিক থেকে দুজনের চরম মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বৈঠক পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, মামদানি নিউইয়র্কের এক সফল ও মহান মেয়র হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন।

অন্যদিকে নিজ দায়িত্ব পালনের মূল্যায়নের বিষয়টি নিউইয়র্কের সাধারণ নাগরিকদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন মেয়র মামদানি। এছাড়া, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করার প্রশ্নে ট্রাম্প জানান, গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। এর জবাবে মেয়র মামদানি স্বাধীন গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে স্পষ্ট করেন, সমালোচনা বা ভিন্ন মত থাকা সত্ত্বেও গ্রেসি ম্যানশনে সকল সংবাদমাধ্যমের মুক্ত উপস্থিতি ও সাংবাদিকদের অধিকারকে তিনি পূর্ণ সমর্থন করেন।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি