এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নাম দিলেন ট্রাম্প!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির লাগামহীন বিকাশ ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর দাবি উঠলেও, তাতে তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআই খাতের ওপর বৈশ্বিক নজরদারির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি ঘোষণা দেন, মার্কিন সরকারি যোগাযোগে 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' বা এআই শব্দের বদলে 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' নামটি ব্যবহার করা হবে।

ট্রাম্পের মতে, কৃত্রিম শব্দটি এই আধুনিক প্রযুক্তির প্রকৃত সক্ষমতাকে খাটো করে উপস্থাপন করে। মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ এবং অন্টারিও হ্রদের নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার পর এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নাম পরিবর্তনের সাম্প্রতিকতম পদক্ষেপ। বিশ্বনেতাদের সতর্কবার্তাকে জলবায়ু পরিবর্তনের সতর্কতার সাথে তুলনা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এআই নিয়ন্ত্রণে যে কোনো বৈশ্বিক প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি বর্জন করবে।

এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতৃত্বের দৌড়ে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যৌথভাবে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তার নীতি গ্রহণে অসম্মতি জানালেও, বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ শক্তিগুলো একে নিয়ন্ত্রণের জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো বৃহৎ শক্তিগুলোর ওপর প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন এআই মডেল তৈরির তাগিদ দেন।

তিনি বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানান একটি অত্যাধুনিক 'ওপেন সোর্স' এআই ব্যবস্থা গঠনে একসাথে বিনিয়োগ করার জন্য। অন্যদিকে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ২০২৭ সালে জি-২০ সভাপতিত্বের দায়িত্ব নিয়ে সর্বসম্মত বৈশ্বিক এআই মানদণ্ড গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, প্রযুক্তি খাতটির নিরাপত্তা নিয়ে ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যানসহ শীর্ষ এআই নির্বাহীরা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে, যা এই ইস্যুতে প্রথম কোনো সরাসরি আলোচনা হতে যাচ্ছে।

প্রযুক্তির বৈশ্বিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে অবিলম্বে বিশেষ সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সমঝোতার সাথে তুলনা করেন।

তিনি মনে করেন, সর্বোচ্চ এআই সক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোর ওপরই মানবতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অর্পিত। জাতিসংঘের আলোচনার মাঝেই আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে এআই নিরাপত্তা সম্পর্কিত একটি স্থায়ী যোগাযোগ চ্যানেল গঠনের আলোচনা ইতিবাচক গতি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন