আসন্ন চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে নিজের ভোট প্রচারের মোক্ষম হাতিয়ার বানাতে চেয়েছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু নিউইয়র্কে পা রাখতেই যেন বরফশীতল অভ্যর্থনার মুখোমুখি হতে হলো তাঁকে।
‘দ্য টাইমস অব ইসরাইল’-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক চিত্র, যেখানে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বহুল প্রত্যাশিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্পের কাছ থেকে পাওয়া এই অনীহা ও 'কোল্ড শোল্ডার' রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক কোণঠাসা করে ফেলেছে ২৭ অক্টোবরের ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো নেতানিয়াহুকে।
নির্বাচনী প্রচারে নিজেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির ‘অন্য লীগের খেলোয়াড়’ হিসেবে জাহির করতে অভ্যস্ত নেতানিয়াহুর জন্য ট্রাম্পের এই বিমুখতা এক বিরাট ধাক্কা।
ট্রাম্প যেখানে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন, সেখানে নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট কোনো সমর্থন দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উল্টো মাত্র কয়েকদিন আগে জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
এর ওপর নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি প্রকাশ্যেই নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ‘ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের দাবি তুলেছেন। নিজের অতি-ডানপন্থি জোট সঙ্গীদের উগ্র আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি এতটাই ধূমিত যে, এবার কোনো শীর্ষ বিশ্বনেতার সঙ্গেই বৈঠক করার সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ভাষণেই নিজের শেষ বাজি ধরতে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু, যার মূল লক্ষ্য নিউইয়র্কের কূটনৈতিক মহল নয়, বরং ইসরায়েলি ভোটাররা। গাজা, লেবানন ও ইরানে টানা সামরিক অভিযান সত্ত্বেও কোনোটিতেই চূড়ান্ত ও স্পষ্ট বিজয় না আসায় চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন তিনি।
গাজার ৬০ শতাংশের বেশি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রাখা কিংবা হামাসকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি তিনি তুলে ধরলেও, বন্দিদের সুরক্ষায় ব্যর্থতা নিয়ে দেশে তুমুল বিক্ষোভের মুখোমুখি নেতানিয়াহু। একই সাথে ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার জন্য তদন্ত কমিশন গঠনে অস্বীকৃতি এবং কট্টরপন্থীদের সেনাবাহিনীতে যোগদানে ছাড় দেওয়ার কারণে দেশের ভেতরেও তিনি তীব্র জনরোষের আগুনে পুড়ছেন।
জাতিসংঘের মঞ্চে ভিজ্যুয়াল এইড বা চিত্রচিত্র প্রদর্শন করে ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনার তথ্য হাজির করার কৌশল নিয়েছেন নেতানিয়াহু, যাতে ট্রাম্প প্রশাসনকে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর হতে বাধ্য করা যায়। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কে কোনো হেভিওয়েট নেতার সাথে বৈঠক ছাড়াই দ্রুত দেশে ফিরে আসা নেতানিয়াহুর জন্য এই ভ্রমণ রাজনৈতিক লাভের বদলে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার এক করুণ চিত্রই বেশি ফুটিয়ে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি