হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালী’!

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে সংকট চরম রূপ নেয়ার মধ্যেই এক নজিরবিহীন ও উসকানিমূলক কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন শর্ত পূরণ করলে মাত্র সাত দিনে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেয়ার বিষয়ে যখন ইরান এক সমঝোতা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, ঠিক তখনই নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীর নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ হিসেবে চিহ্নিত একটি বিতর্কিত মানচিত্র পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরের মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের এই পোস্ট মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক ও উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।

Iran War 02
এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা শেষে নিউইয়র্ক থেকে তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ট্রাম্পের ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার কঠোর হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানালেও, আলোচনার টেবিল একেবারে বন্ধ করে দেননি তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের কড়াকড়ি ও বন্দর অবরোধ তুলে নেয়, তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়, তবে সাত দিনের মধ্যে তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

কূটনৈতিক এই টানাটানির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছেন।

Iran War 07
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল। উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট 'জিসিসি' হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর চরম হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশেও এর চরম নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে পড়া ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর ওপর থেকে ছাড় পেতে ওয়াশিংটনের সাথে জরুরি যোগাযোগ শুরু করেছে ইরাক।

ধর্মীয় তীর্থযাত্রা, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মানবিক বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে কিছু বিমানবন্দরকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাগদাদ। অপরদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

জর্ডান উপত্যকায় ফিলিস্তিনি গ্রামের পানির পাইপ কেটে নিজেদের পুলে সংযোগ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলো দখল করে নিচ্ছে তারা। কূটনৈতিক টানাপোড়েন আর সামরিক সংঘাতের এই যুগপৎ আগুনে দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি।

তথ্যসূত্র: এপি