আমেরিকায় নতুন করে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের দাপট। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেন্ট অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে’র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই দেশটির দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে কোভিডের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
বিশেষ করে পয়ঃনিষ্কাশন বা স্যুয়ারেজের পানি পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া প্রাথমিক সতর্কবার্তায় দেখা গেছে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয়ভাবে বর্জ্য পানিতে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি একলাফে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য পানির এই নজরদারি হলো কমিউনিটিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে দ্রুত এবং নির্ভুল আগাম সংকেত। পশ্চিম ও দক্ষিণ অঞ্চলের বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে কোভিডের এই পুনরুত্থান গত ২০২৫-২০২৬ সালের শীতকালীন পিক বা সর্বোচ্চ মাত্রাকেও ছাপিয়ে গেছে।
সার্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি অঙ্গরাজ্যে নতুন করে সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, ১৩টি অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণ নিম্নমুখী এবং ১০টি অঙ্গরাজ্যে অপরিবর্তিত রয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউসিএলএ ফিল্ডিং স্কুল অব পাবলিক হেলথের মহামারি সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. অ্যান রিমোইন জানান, শীত ও শরতের এই সময়ে কোভিডের তরঙ্গ বৃদ্ধি পাওয়া নতুন কিছু নয়, তবে ভাইরাসের ধরন এখনও ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো একটি নির্দিষ্ট ঋতুভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
শরতের শুরুতে ভাইরাসটির এই হঠাৎ বৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে লক্ষণ সনাক্তকরণ। বর্তমানে জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীর ব্যথা এবং স্বাদ ও গন্ধ চলে যাওয়ার মতো কোভিডের সাধারণ লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণের সাথে মিলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং আসন্ন শীতকালে একাধিক শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে নাগরিকদের জন্য জরুরিভিত্তিতে নতুন কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার জোর পরামর্শ জারি করেছেন।
তথ্যসূত্র: ইউএসএ টুডে-ইকোনমিক্স টাইমস