ট্রাম্প ও বোলসোনারো জোটের বিরুদ্ধে লুলার গর্জন

ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভবত দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় বিশ্বকূটনীতির সবচেয়ে বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ব্রাজিল কারও পেছনের উঠান নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ইঙ্গিত করে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যই এখন ব্রাজিলের নির্বাচনের প্রধান রাজনৈতিক মূলসুর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী রবিবারের চূড়ান্ত রান-অফ নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সিনেটর ফ্ল্যাভিও বোলসোনারোর বিরুদ্ধে কড়া প্রচারণায় নেমেছেন লুলা। এই নির্বাচনকে তিনি কেবল একটি সাধারণ ভোটযুদ্ধ হিসেবে দেখছেন না; বরং বৈদেশিক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন। প্রথম নির্বাচনী বিতর্ক চলাকালে লুলার অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর পরিবার মার্কিন স্বার্থের কাছে নতজানু।

Brazil Election 03
চলতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে বোলসোনারো পরিবারের বৈঠকের পরপরই ব্রাজিলের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘটনার দিকে আঙুল তোলেন লুলা। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বলসোনারোরা আন্তর্জাতিক মহলকে উসকানি দিয়ে ব্রাজিলের ওপর শুল্ক আরোপ করিয়েছেন।

অন্যদিকে বোলসোনারো পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে ট্রাম্প কর্তৃক ব্রাজিলের গরুর মাংস, কফি, জুতা ও অন্যান্য সামগ্রীতে শুল্ক বসানোকে জাইর বোলসোনারোর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো ‘তিক্ত ওষুধ’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল তাঁর বাবার ওপর চালানো আইনি পদক্ষেপ ঠেকানো।

নির্বাচনের প্রথম ধাপে লুলার চেয়ে প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন মার্কিন ঘনিষ্ঠ নেতা বোলসোনারো, যিনি পেয়েছেন ৪৭ শতাংশের বেশি ভোট। লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্ল্যাভিও বোলসোনারোর বাবা জাইর বোলসোনারো ২০২২ সালে লুলার নির্বাচনী জয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

Brazil Election 01
জরিপে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও লুলার বিশ্বাস, তিনি আবার নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটাবেন। এর আগেও ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ৫৮০ দিন কারাবাসের পর সমস্ত অভিযোগ বাতিল হলে ২০২২ সালের নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে জাইর বোলসোনারোকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, “যতদিন আমি বেঁচে আছি, অতি-ডানপন্থীরা এই দেশের ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না।”

নির্বাচনের ঠিক শেষ মুহূর্তে এসে লুলার প্রচারণা দল মার্কিন টেক জায়ান্ট ‘মেটা’র বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যম ম্যানিপুলেট বা প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছে, যদিও মেটা বিষয়টিকে যান্ত্রিক ত্রুটি দাবি করে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমান ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে ডানপন্থী দলগুলোর উত্থানের পটভূমিতে লুলার সমর্থকরা রবিবারের এই নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদ ঠেকানো এবং অঞ্চলটির স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখছেন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স