ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্ব অর্থাৎ রোববারের ‘রানঅফ’ ভোটের আগে জীবন-যাপনে ব্যয়ভার, দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে টেলিভিশনে এক উত্তপ্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং সেনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। দেশের অনীহ ও দ্বিধান্বিত ভোটারের মন জয় করতে শুক্রবার রাতে গ্লোবো টিভিতে এই দুই ঘণ্টার সরাসরি বিতর্কে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফার ভোটে লুলার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, দুজনের মধ্যে ব্যবধান কমে এসে একেবারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে।
বিতর্কে চতুর্থ মেয়াদের সন্ধানে থাকা লুলা তাঁর সরকারের আমলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি এবং কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব তুলে ধরেন। ফ্লাভিওকে খোঁচা দিয়ে লুলা বলেন, বলসোনারো ঠিক ভর্তি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের মতো, সবকিছু মুখস্থ করতে পারে, কিন্তু শিখতে পারে না। আর ও যে সুরক্ষিত ধনী এলাকায় থাকে, সেখানকার মানুষ কোনোদিন না খেয়ে থাকে না।
পাল্টা জবাবে ফ্লাভিও অভিযোগ তোলেন, লুলার আমলে খাদ্যদ্রব্যের দাম হু হু করে বেড়েছে। তিনি বলেন, লুলা এখন বিলাসবহুল প্রাসাদে থাকেন, তিনি ভুলেই গেছেন শেষ কবে নিজে বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন।
বিতর্কের একপর্যায়ে ফ্লাভিও মন্তব্য করেন, লুলা ব্রাজিলিয়ানদের এক হাতে দেন আর ‘নয় আঙুল’ দিয়ে তা ছিনিয়ে নেন। উল্লেখ্য, তরুণ বয়সে কারখানায় কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় লুলার বাঁ হাতের কনিষ্ঠা আঙুলটি হারিয়ে যায়। এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কটূক্তিতে ক্ষুব্ধ লুলা সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি বুঝে ফ্লাভিও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন, তবে একইসঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা ও দেনা নিয়ে লুলা ক্ষমা চাইবেন কি না, সেই প্রশ্নও ছুড়ে দেন।
বিতর্কের শেষ ভাগে কোনো সঞ্চালক না থাকায় পরিস্থিতি আরও তপ্ত হয়ে ওঠে। দুজনই পরস্পরকে বিখ্যাত ‘ব্যাংক মাস্টার’ জালিয়াতি কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। লুলা কারারুদ্ধ ব্যাংক মালিক ড্যানিয়েল ভোরকারোর সঙ্গে বোলসোনারোর সম্পর্কের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করেন, অন্যদিকে ফ্লাভিও লুলার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা পেনশন জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন।
ব্রাজিলের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী শনিবার থেকে রেডিও ও টিভিতে কোনো প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ, ফলে এই বিতর্কটিই ছিল ভোটারদের প্রভাবিত করার শেষ বড় সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, আগামী রবিবারের ব্যালট বাক্সে কোন প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি ও আক্রমণ সাধারণ মানুষের মন ছুঁতে পেরেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স