ফ্লাভিওর পরাজয়ে চুপ করে আছেন ট্রাম্প!

ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার ঐতিহাসিক জয়ের পর এখনও পর্যন্ত সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর এই পরাজয় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এক বড় ধাক্কা। পিতা জাইর বোলসোনারোর মতোই ফ্ল্যাভিওর পেছনে ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য ও সুদৃঢ় সমর্থন ছিল, যা গোপন কোনো বিষয় নয়।

ফলে লুলার এই বিজয় লাতিন আমেরিকার সর্ববৃহৎ অর্থনীতি ব্রাজিলের সাথে মার্কিন প্রশাসনের বিরোধ ও টানাপোড়েনকে আরও বাড়িয়ে দিল।

নির্বাচনী প্রচারণায় ফ্ল্যাভিও বলসোনারো অপরাধ দমনে 'লৌহ মানব' বা কঠোর নীতির কথা জোরেশোরে তুলে ধরেছিলেন। তবে এটি কোনো নতুন কৌশল নয়; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাতিন আমেরিকা জুড়ে বেশ কয়েকজন কট্টর ডানপন্থী নেতাকে ক্ষমতায় বসানোর পেছনে এই একই কৌশল কাজ করেছে, যাদের প্রায় সকলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

ফ্ল্যাভিওর প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম একটি ছিলো- জয়ী হলে তিনি ব্রাজিলকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস’-এ যুক্ত করবেন। ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদ’ মোকাবেলার লক্ষ্যে তৈরি এই জোটের মূল সুরই প্রচারণায় বারবার তুলে ধরেছিলেন জুনিয়র বোলসোনারো।

নিজের একাধিক কেলেঙ্কারির কারণে জনপ্রিয়তায় ধস নামলে সমর্থন পুনরুদ্ধারের জন্য চলতি বছরের মে মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে বিশেষ বৈঠকও করেছিলেন ফ্ল্যাভিও।

তাছাড়া, ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটন বিগত দিনে বেশ ভারী হাত খেলেছে। ব্রাজিলীয় অপরাধী গ্যাংগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং জাইর বোলসোনারোর অভ্যুত্থান চক্রান্তের তদন্তকারী ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার মতো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপও নিয়েছিল ওয়াশিংটন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে সেনা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টার দায়ে সাবেক ডানপন্থী রাষ্ট্রপতি জাইর বোলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

সব ধরনের মার্কিন কৌশল, ভূ-রাজনৈতিক চাপ ও কট্টরপন্থী প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও লুলার কাছে ফ্ল্যাভিওর পরাজয় প্রমাণ করল যে, লাতিন আমেরিকার ভোটাররা ট্রাম্পের প্রিয় ‘কঠোর অপরাধ দমন’ প্লেবুককে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করতে প্রস্তুত। আর এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও ব্রাসিলিয়ার মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক দূরত্বের অধ্যায় শুরু হলো।

তথ্যসূত্র: বিবিসি