মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা দখল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের তীব্র অসন্তোষের ফল মিলেছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে পেছনে ফেলে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস) নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করেছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। পাশাপাশি সিনেটেও আসন বাড়িয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তারা।

সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪৩৫টি আসনবিশিষ্ট প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে, যা তাদের চার বছর পর প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করছে। বিপরীতে রিপাবলিকানরা পেয়েছে অন্তত ১৬০টি আসন। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, সিনেটেও ডেমোক্র্যাটরা সাতটি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে—যার মধ্যে তিনটি এমন অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত, যা কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো।

নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি এই ফলাফল মেনে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। আশা করি, আমরা কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবো।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও পরাজয় স্বীকার করে এক বিবৃতিতে বলেন, আমেরিকার জনগণ ঠিক সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে, যা গত এক শতাব্দীর মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।

প্রতিনিধি পরিষদে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক শুভেচ্ছা বার্তায় নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ বলেন, প্রতিনিধি পরিষদের পরবর্তী স্পিকার হিসেবে ইতিহাস গড়তে যাওয়া হাকীম জেফ্রিসকে অভিনন্দন—তিনি নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে আসা প্রথম স্পিকার হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সহায়তায় ব্লুমবার্গ ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত এ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়ের বড়ো পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিলো। জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব এ নির্বাচনে মূল নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে।

রয়টার্সের বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাটরা এখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নেতৃত্ব, আইন প্রণয়ন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোর ওপর কার্যকর নজরদারি ও তদন্ত পরিচালনার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে সিনেটের আলাস্কা, আইওয়া, মিশিগান, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসের ফল শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে থাকলে বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগে বাধা সৃষ্টির ক্ষমতাও আসবে তাদের হাতে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনামলে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘাত বাড়িয়ে দেবে, যা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বড়ো প্রভাব ফেলতে পারে।