ট্রাম্পের নতুন চিফ অব স্টাফ কট্টরপন্থী মিলার

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরপরই বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল ঘটিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বিতর্কিত ও কঠোর অভ্যন্তরীণ নীতিগুলোর প্রধান কারিগর এবং দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত করেছেন তিনি। বিদায়ী চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন ৪১ বছর বয়সী মিলার।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঠিক এমন সময়েই চিফ অব স্টাফ পদে মিলারের আগমন ঘটল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলেও ট্রাম্প তার কঠোর নীতি ও অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবেন না, এই নিয়োগ তারই স্পষ্ট বার্তা।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিলারকে তার অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে সুজি ওয়াইলসের কাজের প্রশংসা করেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। আগামী দিনের স্পিকার হাকিম জেফ্রিজ নতুন চিফ অব স্টাফ মিলারকে এক বার্তা দিয়ে "বেপরোয়া চরমপন্থী" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

মিলার দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের প্রধান চালিকাশক্তি। দিনে তিন হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের যে লক্ষ্যমাত্রা তিনি নির্ধারণ করেছিলেন, তা নিয়ে মার্কিন জনগণের বড় অংশের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। এ ছাড়া সিভিল সার্ভিসের হাজার হাজার কর্মকর্তা ছাঁটাই এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতিতে মিলারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত জোরালো।

হোয়াইট হাউসের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস ট্রাম্পের রাজনৈতিক ট্র্যাকে ফিরে যাচ্ছেন। সুজির বিদায় এবং তার জায়গায় চরম সোজাসাপ্টা ও কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত মিলারের অন্তর্ভূক্তি আগামী দিনে ডেমোক্র্যাটদের সাথে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের এক মুখোমুখি সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স