ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানি নিয়ে বিপাকে জাপান

সুনামিতে বিধ্বস্ত ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিশোধিত পানি গেলো মাসের শেষ সপ্তাহে প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়া শুরু করেছে জাপান সরকার। এর পরই জাপান থেকে সব ধরনের সামুদ্রিক খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে টোকিও।   

শনিবার জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে এক প্রতিবেদনে জানায়, পরিবেশের ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই প্রথম দফার পানি ছাড়ার কাজ শেষ হলেও আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি চীন। 

এদিকে পানি পরিশোধন করে অধিকাংশ তেজস্ক্রিয় উপাদান সরিয়ে নেয়া হলেও তাতে এখনও ট্রিটিয়ামের উপস্থিতি রয়ে গেছে।

প্ল্যান্ট অপারেটর টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার (টেপকো) দাবি করে, এই পানিতে প্রতি লিটারে প্রায় ৬৩ বেকেরেল ট্রিটিয়াম রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে, খাবার পানিতে প্রতি লিটারে নিরাপদ তেজস্ক্রিয়তার সীমা ১০ হাজার বেকেরেল। বেকেরেল হল তেজস্ক্রিয়তার একক।

তা সত্ত্বেও জাপানের এই পদক্ষেপ দেশটির উত্তরের হোক্কাইদো দ্বীপের একটি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিসহ মৎস্য সংশ্লিষ্ট খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

কোম্পানিটির প্রেসিডেন্ট জানান, তার কোম্পানির প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ছিলো চীন। বছরে প্রায় ৭০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণের সামুদ্রিক খাবার রপ্তানি করা হতো চীনে। অথচ এখন প্রায় ৫০ টন অবিক্রিত স্ক্যালোপ বা এক ধরনের ঝিনুক রেফ্রিজারেটরে রয়ে গেছে।  

চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলোচনা বন্ধ থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করছেন কোম্পানির প্রেসিডেন্ট সাওয়াদা হিকারু। 

এদিকে প্ল্যান্টের অপারেটর টেপকো আগামী মার্চের শেষের দিকে আরও তিন দফা পানি ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। এ নিয়ে জাপানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

২০১১ সালে ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে ওকুমায় অবস্থিত ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রর ছয়টি চুল্লির (রিয়্যাক্টরের) দু’টিতে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে আরও তিনটি রিয়্যাক্টরে আংশিক গলন ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল দুর্ঘটনা পর এতো বড় পারমাণবিক দুর্ঘটনা আর কোথাও ঘটেনি।