জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ফুমিও কিশিদা। সেপ্টেম্বরে তার ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্টের প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।
এর ফলে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ হবে তার তিন বছরের শাসনকাল। বুধবার সকালে টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসি’র।
বুধবার তার সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় সংবাদ সম্মেলনে ফুমিও কিশিদা বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে জনগণকে দেখাতে হবে যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে পরিবর্তন হবে। তাই এলডিপি পরিবর্তনের প্রথম ও সহজে বোধগম্য পদক্ষেপ হবে তার সরে যাওয়া।’
জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০২১ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন কিশিদা। তার তিন বছরের শাসনকালে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ছাড়াও করোনো মহামারি সামাল দিয়েছেন তিনি। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে সমালোচনার কাঠগড়ায়ও দাঁড়িয়েছেন তিনি।
জাপানে তার শাসনামলে ব্যাপক হারে বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম, যা এখনও বেড়েই চলেছে। গত মাসে অপ্রত্যাশিতভাবে সুদহার বাড়িয়েছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে শেয়ার বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়া ছাড়াও দরপতন হয়েছে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের। এসব কারণে কিশিদার জনসমর্থন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
জাপানি সংবাদমাধ্যম জিজি প্রেসের গত মাসে চালানো এক জনমত জরিপে দেখা যায়, ফুমিও কিশিদার জনসমর্থন ১৫ দশমিক ৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে, যা ২০১২ সালের শেষে এলডিপি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার পর সর্বনিম্ন। জনসমর্থনে এ ব্যাপক ধ্বস দেখেই কিশিদা নির্বাচন করবেন না বলে বলা হয়েছে স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমে।
শুধু কিশিদার জনসমর্থনেই ধ্বস নয়, তার ওপরে ক্ষোভে ফুঁসেও উঠেছে জাপানিরা। গত বছরের এপ্রিলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফুমিও কিশিদাকে লক্ষ্য করে স্মোক বোমা ছোড়া হয়। জাপানের ওয়াকাইয়ামা প্রশাসনিক এলাকায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই ঘটনায় তিনি অক্ষত ছিলেন এবং তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
দলের অভ্যন্তরেও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে কিশিদা ২০২৫ সালের নির্বাচনে এলডিপিকে জয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারবেন কিনা। দলটি ১৯৫৫ সাল থেকে প্রায় ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় রয়েছে। তবুও কিশিদার এমন ঘোষণায় এলডিপি নেতারা হতবাক।
সেপ্টেম্বরে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট হিসেবে কিশিদার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর নতুন মেয়াদে দলের দায়িত্ব নিতে নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। কিশিদার এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তে এলডিপির প্রধান হিসেবে কে তার জায়গা নেবেন, তা নিয়ে এখন শুরু হবে প্রতিযোগিতা। বর্তমান বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে কিশিদার উত্তরসূরিকে।