ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সালে। সে লক্ষ্যে সংগঠন শক্তিশালী করতে বদল করা হলো প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি। অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে সরিয়ে আনা হলো শুভঙ্কর সরকারকে। আর পদে বসেই তৃণমূলকে বার্তা দিলেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদে বদল এসেছে শনিবার । অধীর চৌধুরীর জায়গায় দায়িত্বে এসেছেন শুভঙ্কর সরকার। এরপর পশ্চিমবঙ্গের ইনডিয়া জোটের শরিক ও প্রদেশ কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে তার গলায় শোনা গেল কৌশলের সুর।
রোববার নতুন প্রদেশ সভাপতি বলেন, আমরা মানুষের কথা বলবো। মানুষ যেটা চাইবে সেটাতেই আমরা যুক্ত হবো। তবে একজন কংগ্রেস কর্মীর গায়ে হাত পড়লে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যেতেই তখন আমরা পিছপা হবো না।
গত লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরের ‘রবিন হুড’ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর পরাজয়েল পর থেকেই তার পদত্যাগের জল্পনা ছড়ায়। এমনকি অধীর নিজেও জানিয়ে দেন, তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদের দায়িত্ব সামলালেও কংগ্রেসের সংবিধান অনুযায়ী সর্বভারতীয় সভাপতি পরিবর্তন হলে প্রতিটা প্রদেশের নতুন সভাপতি নিয়োগ হয়। আর এই রাজ্যে নতুন সভাপতি নিয়োগ হয়নি। শেষমেষ জল্পনার অবসান হলো।
এর আগে শুভঙ্কর সরকার দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বভার সামলেছেন। জাতীয় স্তরেও তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন কংগ্রেসের । একাধিক রাজ্যের অবজারভারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি ।
শুভঙ্কর বলেন, অধীররঞ্জন চৌধুরীও সেই কথাই বলতেন। এর আগে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা অধীর চৌধুরীর একার ছিলো না। আমি বা আমার মতো অনেকেই তার সিদ্ধান্তের শরিক ছিলাম।
আসন সমঝোতা প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠন মজবুত করারই আমাদের টার্গেট।
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দলের রাজ্য দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন শুভঙ্কর। সেখানে আরজি করের নির্যাতিতা এবং বন্যা কবলিত মানুষদের কথা ভেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন শুভঙ্কর সরকার। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করা আমার প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আরজি কর ইস্যুতে শুভঙ্কর সরকার বলেন, কলকাতাকে ধন্যবাদ অপরাধের বিরুদ্ধে এভাবে প্রতিবাদ করার জন্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্যে দুর্নীতি থেকে শুরু করে মহিলাদের উপরে ক্রমাগত অত্যাচার হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়গুলিও বলবো। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটাই আবেদন, বাংলার মহিলাদের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে দেখুন।
শুভঙ্কর বলেন, এই যে স্বাস্থ্য নিয়ে দুর্নীতি চলল এতদিন ধরে, সিনিয়র ডাক্তাররা যদি একটু আগে থেকেই আন্দোলন করতেন তাহলে আর জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন করতে হত না।