বেইজিংয়ের সুরক্ষিত এবং রহস্যময় ‘ঝংনানহাই’ কমপ্লেক্সের ভেতরে তখন দুই বিশ্বনেতার হাই-ভোল্টেজ বৈঠক শেষ। বাণিজ্য যুদ্ধ, তাইওয়ান সংকট আর ইরানের রণক্ষেত্র নিয়ে এতক্ষণ যে টেবিলে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছিল, সেই গাম্ভীর্য ঝেড়ে ফেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে একটু খোশগল্পে মাতলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
ট্রাম্পকে ঘুরিয়ে দেখাতে লাগলেন কমপ্লেক্সের ভেতরে সযত্নে থাকা শত বছরের পুরোনো সব রাজকীয় গাছপালা। আর ঠিক তখনই এক গোপন মাইকে ফাঁস হয়ে গেল দুই নেতার ভেতরের কিছু দারুণ এবং মজার কথোপকথন! এসব কথা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো ভাইরাল।
সাবেক এই রাজকীয় উদ্যানটি এখন চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি এবং দেশটির মন্ত্রিসভার প্রধান কার্যালয়। নিষিদ্ধ নগরী আর তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই চত্বরে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। সেই রুদ্ধদ্বার চত্বরেই জিনপিং যখন ট্রাম্পকে নিয়ে হাঁটছিলেন, তখন তিনি দোভাষীর মাধ্যমে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাকে একটা তথ্য দিই, এই পাশের সবকটি গাছের বয়স কিন্তু ২০০ থেকে ৩০০ বছরেরও বেশি! আর ওই দূরে যেগুলো দেখছেন, ওগুলোর বয়স ৪০০ বছর পার হয়ে গেছে।
গাছের এমন আকাশছোঁয়া বয়স শুনে ব্যবসায়ী থেকে প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প তো রীতিমতো চোখ কপালে তুললেন! অবাক হয়ে ট্রাম্প প্রশ্ন করে বসলেন, এরা এত বছর বাঁচে?
জিনপিং মৃদু হেসে ট্রাম্পের বিস্ময় আরও বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, অন্যান্য জায়গায় কিন্তু হাজার বছরের পুরোনো গাছও আছে।
এরপর ট্রাম্পের মনে জাগল আসল কৌতুহল। একটু রহস্যের সুরে জিনপিংকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদেরও কি আপনারা এই জায়গায় এভাবে নিয়ে আসেন?
শি জিনপিং বেশ একটা অহংকারী ও কূটনৈতিক ঢঙে জবাব দিলেন, খুবই কম, বলতে গেলে বিরল! শুরুর দিকে তো আমরা এখানে কোনো কূটনৈতিক অনুষ্ঠানই করতাম না। পরে টুকটাক শুরু করলেও তা খুবই কম করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পুতিন এখানে এসেছিলেন।
কথার মাঝেই জিনপিং ট্রাম্পকে আদর করে একটি ২৮০ বছরের পুরোনো গাছের গা ছুঁয়ে দেখতে বললেন। ট্রাম্পও বেশ রসিক মুডে গাছের গায়ে হাত বুলিয়ে চটপট উত্তর দিলেন, দারুণ! আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতির দুই মহারথীর এমন অনানুষ্ঠানিক ও হালকা মেজাজের আলাপচারিতা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অবশ্য জিনপিংয়ের গোপন মাইকে এমন রসালো আলাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের এক সামরিক প্যারেডে যাওয়ার সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে জিনপিংয়ের আরেকটি গোপন আলাপ ফাঁস হয়েছিল। সেবার এই দুই নেতা মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মানুষ কীভাবে ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে, তা নিয়ে বেশ গভীর ও মজার আলোচনায় মেতে উঠেছিলেন!
তথ্যসূত্র: রয়টার্স