আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি স্কুলের কাছে নজিরবিহীন ও নৃশংস হ্যান্ড গ্রেনেড হামলায় অন্তত ৫০ জন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। মূলত শিয়া মুসলিম ও সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আফগান সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে কাবুলের হাজারা অধ্যুষিত এলাকা দাফত-ই-বারচিতে একটি স্কুলের কাছে হঠাৎ বিস্ফোরণটি ঘটে।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান সোমবার গভীর রাতে ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে একঝাঁক শিশু আহত হয়েছে এবং ঘটনার সার্বিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে, নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আফগান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় স্কুলের পাশে অবস্থানরত প্রায় ৫০ জন শিশু আঘাতপ্রাপ্ত ও আহত হয়। হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার আফগানিস্তান বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার রিচার্ড বেনেট এই হামলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, একটি স্কুলের কাছে অসংখ্য শিশুকে লক্ষ্য করে চালানো এই জঘন্য হামলা অত্যন্ত মর্মান্তিক। কাবুলের শিয়া-হাজারা অধ্যুষিত এই অঞ্চলটিকে আবারও নিশানা করা হলো, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়।
বেনেট আরও জোর দিয়ে বলেন, এই হামলার জন্য যারা দায়ী, তাদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আয়োজন করা অত্যন্ত আবশ্যক।
আফগান জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ শিয়া মতাদর্শের হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্য ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর নৃশংসতার শিকার হয়ে আসছে। ইসলামিক স্টেটসহ অন্যান্য উগ্রপন্থী সুন্নি সংগঠনগুলো বারবার এই হাজারাদের লক্ষ্য করে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে আসছে।
এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে তালেবান ক্ষমতা দখলের মাত্র কয়েক মাস আগে, একই দাফত-ই-বারচি এলাকার একটি স্কুলে তিনটি ধারাবাহিক বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন ছুটির পর বের হওয়া সাধারণ হাজারা শিক্ষার্থী ও কমবয়সী মেয়ে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই পুরানো আতঙ্কের স্মারককে আবারও পুনরুজ্জীবিত করল।
তথ্যসূত্র: এপি ও এনডিটিভি