মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে তাঁর বাকি কারাদণ্ডের মেয়াদ গৃহবন্দী হিসেবে কাটানোর অনুমতি দিয়ে রাজক্ষমা অনুমোদন করেছেন দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম। ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ নামক রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে কোটি কোটি ডলার আত্মসাতের কেলেঙ্কারিতে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই রাজনীতিবিদের পক্ষে এটি দ্বিতীয়বারের মতো রাজক্ষমার সিদ্ধান্ত।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর আইন বিভাগ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা সুলতান ইব্রাহিম শর্তসাপেক্ষে নাজিব রাজাককে রাজক্ষমা প্রদানের অনুমতি দিয়েছেন, যার ফলে তিনি ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর অবশিষ্ট সাজা গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে পারবেন।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ৭৩ বছর বয়সী নাজিব এমডিবি ফান্ড গঠনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীতে সেই তহবিল থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
মার্কিন তদন্তকারীদের মতে, প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার লোপাটের এই বিশ্বব্যাপী চক্রান্তে নাজিবের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ গিয়েছিল। যদিও শুরু থেকেই নাজিব নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন রাজার দেওয়া প্রথম রাজক্ষমা পেয়ে তাঁর ১২ বছরের সাজা কমে অর্ধেক হয়েছিল। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের আরেকটি মামলায় তাঁকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২.৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়, যা বর্তমানে আপিলাধীন।
আনোয়ার সরকারের রাজনৈতিক সংকট: নাজিবের এই গৃহবন্দীত্বের অনুমোদন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের জোট সরকারের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বর্তমানে আনোয়ারের 'পাকাতান হারাপান' জোটের অন্যতম অংশীদার নাজিবের সাবেক দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন। আনোয়ারের নিজস্ব সমর্থকেরা নাজিবের প্রতি কোনো ধরণের শিথিলতার বিরোধী হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের পর সরকারে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আনোয়ার ইব্রাহিম জনগণকে রাজার সিদ্ধান্ত সাদরে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তাঁর সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বহাল রাখবে এবং কোনো নেতাকে দুর্নীতির সুযোগ দেয়া হবে না। তবে জোটের অন্দরমহলে উত্তেজনা বাড়লে ২০২৮ সালের নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি আগাম নির্বাচনের ডাক দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত রয়েছে।
অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের রাজনৈতিক জয় হিসেবে দেখছে ইউএমএনও। দলটির সভাপতি আহমদ জাহিদ হামিদি রাজার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং নাজিবের ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত (১২.২৭ মিলিয়ন ডলার) জরিমানা পরিশোধের জন্য দলের সদস্যদের থেকে একটি বিশেষ তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্যাজা শুকরি মন্তব্য করেছেন, রাজক্ষমার এই সিদ্ধান্ত আনোয়ার ইব্রাহিমের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা আগামী নির্বাচনে ইউএমএনও-কে পুনরায় ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরে আসার ক্ষেত্রে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে দেবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স