যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে শীর্ষে চীন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে বিশ্বজুড়ে নৌ-সামরিক সরঞ্জাম, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন উৎপাদনের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই বছরে বিশ্বজুড়ে সামরিক নৌ-উৎপাদনের মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘নেভাল গ্রুপ’।

প্যারিসে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নৌ-প্রতিনিধিদের প্রদর্শনী ‘ইউরোন্যাভাল ড্রেফেন্স ট্রেড শো’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেভাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিয়েরে-এরিক পমেলট এই তথ্য প্রকাশ করেন। ইউরোন্যাভালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২২-২০২৩ সালে যেখানে বিশ্বজুড়ে নৌ-সামরিক উৎপাদনের মূল্য ছিল ৮২ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৪-২০২৫ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

নেভাল গ্রুপের সিইও ও ফরাসি শিপবিল্ডিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান পিয়েরে-এরিক পমেলট নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সামরিক যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণের দৌড়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে চীন, যা বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সামরিক সংকটের পর পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো তাদের নৌবহর দ্রুত আধুনিকীকরণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের বিদ্যমান হুমকিগুলো তুলে ধরে পমেলট এক সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, গত ৩০ বছর ধরে আমরা অনেকেই সমুদ্রকে একটি নিরাপদ, উন্মুক্ত ও মুক্ত ক্ষেত্র বলে মনে করতাম, যেখানে উন্মুক্তভাবে বাণিজ্য পরিচালিত হতো। কিন্তু সেই যুগের এখন সমাপ্তি ঘটেছে।

তিনি আরও যোগ করেন, ইউক্রেন সংঘাত, কৃষ্ণসাগর ও লোহিত সাগরের অস্থিরতা, পারস্য উপসাগর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, শ্যাডো ফ্লিট, সাবমেরিন ক্যাবল কাটা, ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র, মাইন ও জ্যামিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখন একযোগে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। সাধারণ মানুষও এখন এই হুমকিগুলো স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করছে।

বিদ্যমান এই বিশ্বপরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশসমূহ ও তাদের মিত্রদের নৌপ্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান পমেলট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন আর কোনো একক দেশের পক্ষে একাকী স্বাধীন নৌবহর পরিচালনা করা সম্ভব নয়। নতুন নৌ-প্রকল্পগুলো দিন দিন আরও বেশি আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় কেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।

একই ধরনের যুদ্ধজাহাজ, রণতরী, একই লজিস্টিকস ও একই মিসাইল সিস্টেম একাধিক মিত্র দেশ যৌথভাবে ব্যবহার করলে সবার জন্যই খরচ ও নিরাপত্তার দিক থেকে পারস্পরিক সুবিধা তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স