ক্যান্সার আক্রান্ত রাজা চার্লস প্রথমবার জনসমক্ষে

ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পর রাজা চার্লসকে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গেছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবাকে দেখতে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি। তিনি যুক্তরাজ্যে আসার পরেই জনসম্মুখে এলেন চার্লস।

লন্ডনের ক্ল্যারেন্স হাউজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িতে রাজা ও রানিকে দেখা গেছে। তারা এখন নরফোকের সান্ড্রিংঅ্যামে অবস্থান করছেন। প্রিন্স হ্যারি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগের রাতেই ফ্লাইটে লন্ডনে পৌঁছান। খবর বিবিসি’র।

বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে সোমবার জানানো হয়, ৭৫ বছর বয়সী রাজার ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাকালীন সময়ে জনসম্মুখে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন।

তবে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে খুব বেশি তথ্য জানানো হয়নি। শুধু নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সম্প্রতি অন্য একটি রোগের চিকিৎসা করানোর সময় তার ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে।

রাজার ক্যান্সার শনাক্তের বিষয়টি ঘোষণা হওয়ার আগেই তার দুই ছেলেকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার লন্ডনের ক্ল্যারেন্স হাউজ ছেড়ে যাওয়ার সময় রাজা ও রানীকে হেসে হাত নাড়তে দেখা গেছে।

সান্ড্রিংঅ্যামের উদ্দেশ্যে রাজার ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার আগে চার্লস ও প্রিন্স হ্যারি ৪৫ মিনিটের মতো সাক্ষাৎ করেছেন। ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল যুক্তরাষ্ট্রে তাদের দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে আছেন।

প্রিন্স হ্যারির যুক্তরাজ্য সফরের সময় তার ভাই প্রিন্স অব ওয়েলসের সঙ্গে দেখা করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই মনে হচ্ছে। 

প্রিন্স হ্যারি যে গতিতে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লন্ডনে তার বাবার সাথে দেখা করার জন্য তাড়াহুড়ো করেছেন তা উল্লেখযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।

যদিও প্রিন্স হ্যারি বা মেগানের বড়দিন বা পারিবারিক কোনো গেট টুগেদারে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত তারা রাজপরিবারের বাকি সদস্যদের থেকে আলাদাই থাকছেন।

প্রিন্স উইলিয়াম এখনও রাজার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। রাজার অনুপস্থিতিতে বাবার কিছু অনুষ্ঠানে প্রিন্স উইলিয়াম যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও রাজপ্রাসাদ থেকে রাজার আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এর আগে, রাজপ্রাসাদ থেকে জানানো হয়, ৭৫ বছর বয়সী রাজা এই চিকিৎসার বিষয়ে সম্পূর্ণ ইতিবাচক এবং যত দ্রুত সম্ভব আবার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালনে ফেরার বিষয়ে আশাবাদী।

যুক্তরাজ্যে প্রতি দুইজনের মধ্যে একজনের জীবনে অন্তত একবার ক্যান্সার শনাক্ত হয়ে থাকে। ধরন অনুযায়ী, বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর নতুন ক্যান্সার রোগীদের ৩৬ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৭৫ বছর কিংবা তার বেশি।