এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে টালমাটাল ব্রিটেন, পদত্যাগে নারাজ স্টারমার

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নিজ দলের ভেতরেই তার পদত্যাগের দাবি উঠলেও, সোমবার তিনি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পদ ছাড়ছেন না এবং দেশের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সাথে পিটার ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্টারমার সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি আর্থিক মন্দার সময় এপস্টাইনকে ব্রিটেনের সম্পদ বিক্রি ও কর পরিবর্তন সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাচার করেছিলেন। বর্তমানে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক অসদাচরণের তদন্ত চলছে। গত সেপ্টেম্বরে তাকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিচারবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই সংকটের সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে যখন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারোয়ার প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেন। সারোয়ার বলেন, ডাউনিং স্ট্রিটের এই অস্থিরতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন এবং লন্ডনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা জরুরি। লেবার পার্টির কোনো জ্যেষ্ঠ নেতার পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আঘাত।

পাশাপাশি, গত দুই দিনে প্রধানমন্ত্রীর দুজন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী পদত্যাগ করেছেন। স্টারমারের প্রধান সহযোগী মর্গান ম্যাকসুইনি ম্যান্ডেলসনের নিয়োগে ভুল পরামর্শ দেয়ার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন। এরপরই পদত্যাগ করেন যোগাযোগ প্রধান টিম অ্যালান।

তীব্র চাপের মুখেও স্টারমার লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের এক সভায় দৃঢ়তা প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, দেশ পরিবর্তনের জন্য আমরা কঠোর সংগ্রাম করেছি। আমি ম্যান্ডেট ছেড়ে পালিয়ে যেতে প্রস্তুত নই। আমি দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারি না। তিনি আরও সতর্ক করেন, তার পদত্যাগ ডানপন্থী পপুলিস্ট ‘রিফর্ম পার্টি’ ও নাইজেল ফারাজকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিতে পারে।

তবে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য যেমন, অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি স্টারমারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এমনকি সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশী অ্যাঞ্জেলা রেনারও স্টারমারকে পূর্ণ সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছেন। দলের এই সংহতির ফলে আপাতত বড় কোনো অভ্যুত্থানের হাত থেকে তিনি বেঁচে গেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়েছে ব্রিটেনের শেয়ার বাজারেও। সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে গেছে এবং পাউন্ডের মান কিছুটা অস্থিতিশীল হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনোচ স্টারমারকে আক্রমণ করে বলেন, তিনি বাতাসের তোড়ে উড়তে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগের মতো দিশেহারা। তিনি যদি সরকার চালাতে না পারেন, তবে লেবার পার্টির অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত অথবা নতুন নির্বাচন দেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরে গিয়ে এখন স্টারমার সরকারের টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।