ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনের আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইউরোপ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং এখন সময় এসেছে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেয়ার।
ম্যাখোঁ বলেন, আমরা কি একটি মহাশক্তি হতে প্রস্তুত? অর্থনীতি, অর্থায়ন, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখন এই প্রশ্নটিই সবচেয়ে বড়। তিনি মনে করেন, ইউরোপ আগে ভাবত যুক্তরাষ্ট্র তাদের আজীবন নিরাপত্তা দেবে এবং রাশিয়া দেবে সস্তা জ্বালানি। কিন্তু গত তিন বছরে সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে ইউরোপ অনেকটা একা হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিল্প খাতে বিশাল বিনিয়োগের লক্ষ্যে ম্যাখোঁ ইইউভুক্ত দেশগুলোর জন্য ‘যৌথ ঋণ’ বা ‘ইউরোবন্ড’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের জন্য ইইউর প্রতি বছর প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন।
ম্যাখোঁর মতে, বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের বিকল্প খুঁজছে বিনিয়োগকারীরা, আর একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনে চলা ইউরোপ হতে পারে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
তবে ম্যাখোঁর এই প্রস্তাব জার্মানি এবং উত্তরের দেশগুলোর কাছে অতীতে সমালোচিত হয়েছে। তাদের ধারণা, ফ্রান্স নিজের অর্থনৈতিক সংস্কারের ব্যর্থতা ঢাকতে ইউরোপের ওপর আর্থিক বোঝা চাপাতে চায়। ম্যাঁক্রো নিজেও স্বীকার করেছেন, ফ্রান্সের অর্থনৈতিক মডেলে কিছু ঘাটতি রয়েছে যা পর্তুগাল বা স্পেনের মতো দেশগুলো সংস্কারের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠেছে।
ম্যাখোঁ চীনকে একটি ‘তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে আইনের শাসন থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পিছু হটার প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন একবার পিছু হটেছে মানেই সব শেষ হয়ে গেছে, এমনটা ভেবে বসে থাকা হবে চরম বোকামি।
নিজের বাজার রক্ষার বিষয়ে ম্যাখোঁ বলেন, আমি বলছি না যে আমাদের কঠোর সুরক্ষাবাদী হতে হবে। তবে আমাদের সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আমরা আমাদের নিজেদের উৎপাদকদের ওপর যে কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছি, তা যেন বহিরাগতদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।
পরিশেষে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ৪৫০ মিলিয়ন জনসংখ্যার ইউরোপ এক সময় যুদ্ধ থামাতে এক হয়েছিল, এরপর বাজার গড়তে এক হয়। এখন সময় এসেছে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার।