এপস্টাইন কাণ্ডে গ্রেপ্তার সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু, রাজপরিবারে তোলপাড়

যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে সরকারি দপ্তরে অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থেমস ভ্যালি পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে হেফাজতে নেয়। দীর্ঘ তদন্তের পর এটিই এই মামলার সবচেয়ে নাটকীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

থেমস ভ্যালি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে নরফোক থেকে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর বার্কশায়ার এবং নরফোকের সংশ্লিষ্ট ঠিকানাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। যদিও জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সরাসরি ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেনি, তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর।

ছবি: সংগৃহীত
বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। সহকারী চিফ কনস্টেবল অলিভার রাইট বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের পর আমরা জনপদে অসদাচরণের এই অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে আমরা সময়মতো সব আপডেট জানাব।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারের মূল ভিত্তি হলো অ্যান্ড্রু যখন ব্রিটেনের বিশেষ বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, সেই সময়ের কিছু নথি। অভিযোগ উঠেছে, ওই গোপন নথিগুলো তিনি বিতর্কিত মার্কিন ধনকুবের ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনকে সরবরাহ করেছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
পাশাপাশি আরও একটি গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, জেফরি এপস্টাইন অ্যান্ড্রুর সাথে যৌন সংসর্গের জন্য দ্বিতীয় এক নারীকে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন। তবে বর্তমান গ্রেপ্তারটি মূলত 'সরকারি দপ্তরে অসদাচরণ' বা পদের অপব্যবহারের সাথেই সংশ্লিষ্ট।

সকালে 'মেইল অনলাইন' স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের কাছে পুলিশের উপস্থিতির কিছু ছবি প্রকাশ করার পরেই এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাজপরিবারের এই প্রাক্তন সদস্য আগে থেকেই জেফরি এপস্টাইন সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
তবে এই গ্রেপ্তার তাঁর আইনি লড়াইকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।মামলাটি বর্তমানে 'সক্রিয়' অবস্থায় থাকায় থেমস ভ্যালি পুলিশ সংবাদমাধ্যম ও জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। আদালতের অবমাননা এড়াতে কোনো তথ্য বা প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই গ্রেপ্তার ব্রিটেনের রাজপরিবার এবং রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনাটি ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।