ট্রাম্পের কড়া কথা হজম করেও বন্ধুত্ব চাইলেন মার্জ

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ অবশেষে মেনে নিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একরোখা নেতার সাথে কাজ করতে হলে নিজের মতাদর্শ কিছুটা সিন্দুকে তুলে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। রোববার এক সাক্ষাৎকারে মার্জ স্পষ্ট করেছেন, ন্যাটোর স্বার্থে আমেরিকার সাথে পথ চলতে হলে ট্রাম্পের ভিন্নমতকে হজম করে নেয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় নেই। তবে, দুই নেতার এই প্রকাশ্য ‘বাকযুদ্ধ’ জার্মানি থেকে ৫,০০০ মার্কিন সেনা কমানোর কারণ কি না, এমন প্রশ্নে চ্যান্সেলর বেশ কায়দা করেই সাফাই গেয়েছেন।

সংঘাতের শুরুটা হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে। মার্জ প্রশ্ন তুলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধে ট্রাম্পের আদৌ কোনো প্রস্থানের পরিকল্পনা আছে কি না। তিনি এমনকি রসিয়ে বলেছিলেন, ইরানের সাথে আলোচনায় আমেরিকা শুধুই লজ্জিত হচ্ছে। ট্রাম্পও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নন; তিনি পাল্টা আক্রমণে মার্জকে একজন অকার্যকর নেতা হিসেবে তকমা দিয়েছেন। এই রেষারেষির মধ্যেই গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, তারা জার্মানিতে থাকা তাদের বৃহত্তম ঘাঁটি থেকে পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেবে।


অনেকেই মনে করছেন মার্জের সমালোচনায় চটে গিয়েই ট্রাম্প এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে, মার্জ এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এর সাথে ব্যক্তিগত ঝগড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদ থেকেই জার্মানিতে মার্কিন উপস্থিতি কমানোর পক্ষে ছিলেন এবং ইউরোপীয়দের বারবার নিজের নিরাপত্তা নিজে দেখার নসিহত দিয়ে আসছিলেন। চ্যান্সেলরের ভাষায়, প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতেই পারে, কিন্তু আমেরিকা আমাদের জন্য অপরিহার্য অংশীদার।

এই সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা বার্লিনের জন্য এক বড় চপেটাঘাত। জো বাইডেন প্রশাসনের সময় জার্মানিতে দীর্ঘপাল্লার 'টমাহক' মিসাইল মোতায়েনের যে পরিকল্পনা ছিল, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তা কার্যত আঁতুড়ঘরেই মারা গেল। রাশিয়াকে রুখতে জার্মানি এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর অনেক ভরসা করেছিল।


এ প্রসঙ্গে মার্জ কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরেই বলেন, ট্রাম্প কোনোদিন এই পরিকল্পনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না। উপরন্তু, তিনি খোঁচা দিয়ে আরও যোগ করেন, আমার ধারণা, আমেরিকানদের নিজেদের কাছেই এখন যথেষ্ট পরিমাণে এই অস্ত্র নেই।

সব মিলিয়ে ফ্রিডরিখ মার্জ এখন এক কঠিন সমীকরণের সামনে। একদিকে আটলান্টিক পাড়ের মিত্রকে চটানো যাবে না, আবার অন্যদিকে ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির কাছে নতি স্বীকার করাও সম্মানের বিষয় নয়। দুই নেতার এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত ন্যাটোর ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে আপাতত মার্জ মেনে নিয়ে মানিয়ে নেয়ার নীতিতে হাঁটছেন, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স