যুক্তরাজ্যের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপর্যয়কর ফলাফলের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ রাজনীতি। সোমবার দলের সিনিয়র এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট তাঁর সহকর্মীদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন।
ক্যাথরিন ওয়েস্ট সরাসরি অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে না হাঁটলেও, একটি সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে জোরালো সওয়াল করছেন। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে স্টারমারকে সরাতে হলে ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। ওয়েস্ট মনে করেন, নির্বাচনের এই শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের ঘুরে দাঁড়াতে নতুন নেতৃত্ব অপরিহার্য।
সোমবার সকালে লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন, যেখানে তিনি সমালোচনার মুখেও পিছু না হটার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্টারমার বলেন, আমি জানি মানুষ রাজনীতি ও আমার ওপর কিছুটা ক্ষুব্ধ। আমার সামর্থ্য নিয়ে অনেকের সন্দেহ আছে, কিন্তু আমি তাদের ভুল প্রমাণ করব। ২০২৪ সালে টানা ১৪ বছরের রক্ষণশীল শাসনের অবসান ঘটিয়ে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা স্টারমার পরাজয়ের দায় স্বীকার করেও দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর ক্যাথরিন ওয়েস্ট এক বিবৃতিতে জানান, তিনি স্টারমারের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছি এবং তাঁর নতুন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানাই। তবে আমার মনে হয়েছে এটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক দেরি হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রী মানুষের মনে আশা জাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন দল ও দেশের স্বার্থে একটি নিয়মতান্ত্রিক নেতৃত্ব পরিবর্তনই কাম্য।
কিয়ার স্টারমারের ওপর এই চাপের মূল কারণ হলো ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে দলের অভাবনীয় পরাজয়।কার্ডিফে ওয়েলস পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ২৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম লেবার পার্টি সেখানে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ইংল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টি প্রায় ১,৫০০টি আসন হারিয়েছে। অন্যদিকে, নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ‘রিফর্ম ইউকে’ চমকপ্রদ সাফল্য দেখিয়েছে। তাদের আসন সংখ্যা ১০০-এর নিচ থেকে লাফিয়ে বেড়ে ১,৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।
নির্বাচনী এই ভরাডুবির পর কিয়ার স্টারমার দলকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করলেও দলের ভেতরে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। ওয়েস্টের দেয়া সেপ্টেম্বরের সময়সীমা স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ফারাজের দলের উত্থান আর অন্যদিকে দলের ভেতরের বিদ্রোহ, সব মিলিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এখন এক চরম অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন।