ইউক্রেনের বৃহত্তম শস্য বন্দরে রাশিয়ার জোরালো হামলা

আসন্ন শীত মৌসুমের আগেই ইউক্রেনের জ্বালানি ও খাদ্য অবকাঠামো ধ্বংস করতে নতুন করে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেশটির দক্ষিণ ওডেসা অঞ্চলের রোমানিয়া সীমান্তবর্তী ইজমাইল বন্দরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত এটি ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় শস্য রপ্তানি বন্দর, যা দিয়ে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়।

ইজমাইল আঞ্চলিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, হামলায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঠিক এক দিন আগেই রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় মূল শস্য হাব নোভোরোসিস্কে ইউক্রেনীয় হামলার জবাবে রাশিয়া এই আক্রমণ চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রুশ হামলার সময় ইউক্রেন সীমান্ত সংলগ্ন ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র রোমানিয়ার আকাশসীমায় অন্তত ১০ মিনিটের জন্য একটি আকাশযান প্রবেশ করায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোমানিয়া জরুরি ভিত্তিতে দুটি ফাইটার জেটের মহড়া শুরু করে বলে জানিয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

Russian Attack 03
এ ছাড়া ওডেসা অঞ্চলে রুশ ড্রোনের সরাসরি আঘাতে ইউক্রেনীয় রেলওয়ের একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের চালক ও তাঁর সহকারী নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় রেলওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওলেকসান্দর পের্তসোভস্কি নিশ্চিত করেছেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং আসন্ন শীতকালে নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সর্বাধুনিক ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল পাওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সিএনএন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুদের মাত্র ৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের জন্য জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্যাট্রিয়ট মজুদের ৫ শতাংশ আমাদের কাছে বিক্রি করলে আমরা পুরো শীত মৌসুম নিরাপদে পার করে দিতে পারি এবং বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে পারি। আর যদি ১০ শতাংশ বিক্রি করে, তবে আমরা রাশিয়ার সমস্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হব। অথচ বর্তমানে আমাদের কাছে এই সরবরাহের মাত্র ১ শতাংশ রয়েছে।

Russian Attack 02
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের একটি বড় অংশ ওই দিকে মোড় নেওয়ায় ইউক্রেনে ‘পিএসি-৩’ প্যাট্রিয়ট মিসাইলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

ড্রোনের চেয়ে গতি ও উচ্চতার কারণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসেই রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ৪৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল ভয়ংকর ব্যালিস্টিক ক্যাটাগরির।

একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে বিমান বাহিনী দৈনিক কতটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে সেই হিসাব না দিয়ে মাস শেষে একবারে পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে।