রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় এক ভয়াবহ বোমা হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর বহরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রবার্ট শাগিভ নিহত হয়েছেন। দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী শাগিভ মূলত ইউক্রেনের সাবেক নৌ কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি পরে রাশিয়ায় যোগ দেন। এই হত্যাকাণ্ডে মার্গারিটা রেউত (৩২) নামের এক রুশ তরুণীকে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে রুশ নিরাপত্তা বাহিনী।
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংক্রান্ত টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং টেলিগ্রাফের সূত্রে জানা গেছে, ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল শহরে শাগিভ যখন সিঁড়ি দিয়ে নেমে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর কাছাকাছি থাকা একটি ডাস্টবিনে আগে থেকে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক ডিভাইসের বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে, স্থানীয় বাসিন্দারা শুরুতে এটিকে আবাসিক এলাকায় ড্রোন হামলা বলে ভুল করেছিলেন।
অভিযুক্ত ৩২ বছর বয়সী মার্গারিটা রেউত রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সোচি এবং ক্রিমিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। পেশাগত জীবনে একজন জীববিজ্ঞানীর পাশাপাশি তিনি এসকোর্ট ওয়েবসাইটেও সক্রিয় ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইতোপূর্বে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি ট্রেনে ইউক্রেনপন্থী মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে দুদিনের জন্য আটক করা হয় এবং রুশ সেনাবাহিনীকে অবমাননা করার দায়ে জরিমানা করা হয়।
রাশিয়ার ইটুডব্লিউ নিউজের তথ্য মতে, তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই হামলায় দায় স্বীকার করেছেন এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি নির্দেশে বা তাদের সাথে সমন্বয় করে রেউত এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। শাগিভকে হত্যার পরপরই তাঁর রাশিয়া ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে ঠিক কীভাবে বা কখন তিনি ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত হয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রবার্ট শাগিভ ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর একমাত্র সাবমেরিন 'জাপোরিঝিয়া'-এর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ছিলেন। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করলে তিনি ইউক্রেনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে রাশিয়ার পক্ষে যোগ দেন। দেশদ্রোহিতার অভিযোগে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল।
পরবর্তীতে তিনি রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর বহরের সাবমেরিন ইউনিটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে তাঁর অধীনস্থ বহর সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই বিশ্বাসঘাতকতার মাশুল হিসেবেই অবশেষে ক্রিমিয়ার মাটিতে বোমা হামলায় তাঁর জীবনাবসান ঘটল।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি