ইরান যুদ্ধ কেন্দ্রিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যাপক প্রচারণার মাঝেই সংক্ষিপ্ত ৪৮ ঘণ্টার আয়ারল্যান্ড সফরে দেশটির রাজধানী ডাবলিনে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডাবলিন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে অভ্যর্থনা জানান দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর না হলেও আইরশি প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর বৈঠক হতে যাচ্ছে।
এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন আমেরিকায় ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী এবং রিপাবলিকান পার্টির কনভেনশন সদ্য শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ বাড়ছে, যা নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার লড়াইকে কঠিন করে তুলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে আয়ারল্যান্ডের শীর্ষ নেতাদের সাথে ট্রাম্পের বৈঠকে ইরান যুদ্ধ কেন্দ্রিক উদ্বেগ ও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রধান আলোচনার বিষয় হতে পারে।
ট্রাম্পের এই সফরকে কেন্দ্র করে আয়ারল্যান্ডজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত বছর নির্বাচিত আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির সাথে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ট্রাম্পের আগের সফরের সময় বামপন্থী হিসেবে পরিচিত রাজনীতিবিদ ক্যাথরিন কনোলি মার্কিন নীতির প্রতিবাদে শ্যানন বিমানবন্দরের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। সমর্থকরা তাঁকে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম ফিলিস্তিনপন্থী দেশ। গত জুলাইয়ে দেশটি দখলকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোর উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচা নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছিল, যার কড়া সমালোচনা করেছিল মার্কিন আইন প্রণেতারা। ডাবলিন এবং পশ্চিম আয়ারল্যান্ডের ট্রাম্পের গলফ রিসোর্টের আশপাশে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বেশ কয়েকটি বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ সত্ত্বেও আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিকেল মার্টিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত কয়েক দশক ধরে আইরিশ সরকারগুলোর গৃহীত নীতির কারণে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১০ শতাংশ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে, যা আয়ারল্যান্ডকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত করতে সাহায্য করেছে।
১৯৬৩ সালে জন এফ কেনেডির পর থেকে আটজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়ারল্যান্ড সফর করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই সফরের মূল আকর্ষণ তাঁর ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের মালিকানাধীন ডুনবেগের গলফ রিসোর্ট। চলতি সপ্তাহে সেখানে 'আইরিশ ওপেন' গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং রোববার ট্রাম্প নিজে উপস্থিত থেকে বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স