বরিস জনসন স্টেশন ছাড়তেই ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ হামলা!

ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইয়াহোদিন স্টেশনে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের ইঞ্জিনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউরোপে বড় ধরনের কূটনৈতিক অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং শীর্ষ ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি বিশেষ ট্রেন সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করেছিল। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাত হানার আগেই সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

Russia Attack 03
কিয়েভে অনুষ্ঠিত 'ইয়াল্টা ইউরোপিয়ান স্ট্র্যাটেজি' (YES) সম্মেলন শেষে ফিরছিলেন বরিস জনসন, যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল এবং সুইডেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডসহ একদল উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিনিধি।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কোম্পানি ‘উকর্জালিজনিৎসিয়া’ অনুমান করছে, রাশিয়া একে রেল কাঠামোতে হামলা বলে দাবি করলেও এই ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্য হয়তো ছিলো সেই কূটনৈতিক ট্রেনটিই। নিয়মিত সময়সূচি পরিবর্তন করে আগেভাগে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কারণে কূটনৈতিক ট্রেনটি ড্রোনের আঘাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পায়। অন্যদিকে, যে ট্রেনটিতে আঘাত হানা হয়েছিল, তার যাত্রীদের ড্রোন হামলার ঠিক ১৫ মিনিট আগে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

Russia Attack 02
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রাক্তন প্রধান ডেভিড পেট্রায়াস এবং সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ড এ ঘটনাকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও বর্বর বলে আখ্যা দিয়েছেন। কার্ল বিল্ড জানান, তাদের বহনকারী ট্রেনটিকেও কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর তারা নিরাপদে পোল্যান্ডের দোরোহুস্ক সীমান্তে পৌঁছান।

এই হামলাটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার (১.২ মাইল) দূরে সংঘটিত হওয়ায় ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও নতুন করে সামনে এসেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার এই ধরনের আগ্রাসন দিন দিন ন্যাটো সীমান্তের আরও কাছে চলে আসছে।

Russia Attack 04
বরিস জনসন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে এই আক্রমণকে রাশিয়ার একটি ‘বিকৃত ও অর্থহীন আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং ইউক্রেনের জন্য জরুরিভিত্তিতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। একইভাবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা মন্তব্য করেন, পুতিনের এই সন্ত্রাসী হামলা সরাসরি ইইউ ও ন্যাটোর দরজায় আঘাত করছে। তিনি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং যুদ্ধের ব্যয় বাড়িয়ে তা প্রতিহত করার ওপর জোর দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের ট্রেনের নেটওয়ার্ক, ডিপো, পেট্রোল পাম্প এবং সীমান্ত এলাকাগুলোতে আক্রমণ জোরদার করেছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আক্রমণের পর থেকে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের জন্য এই বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্কই একমাত্র ভরসা। ইতিপূর্বেও বিভিন্ন ট্রেনে ও ডিপোতে রাশিয়ার হামলায় একাধিক যাত্রী ও রেলকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া জার্মানি, ইতালি এবং এস্তোনিয়া সহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে একের পর এক সন্দেহজনক ড্রোন ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নেপথ্যে রাশিয়ার হাত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অভিযোগ তুলছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি