তুরস্কে সমকামীদের ডেরায় ঝটিকা অভিযানে গ্রেপ্তার ৬০

তুরস্কে রোববারের এক ঝটিকা অভিযানে সমকামীদের বার, নাইটক্লাব এবং এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীদের আস্তানায় হানা দিয়ে কমপক্ষে ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার অজুহাতে এই বিশাল চড়াও কার্যক্রম চালায়। ইস্তানবুল বলছে, এই অভিযান চলমান থাকবে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২০০২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা তুরস্কের ইসলামপন্থী শিকড়ের রক্ষণশীল সরকার এবার এলজিবিটিকিউ আন্দোলনকারীদের ওপর পূর্ণ মাত্রায় ক্র্যাকডাউন শুরু করেছে।

turkey LGBTQ 04
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইতিপূর্বেই এলজিবিটিকিউ আন্দোলনকে ‘বিকৃতকামীদের’ আন্দোলন বলে তোপ দেগেছেন এবং দেশটির জন্মহার কমে যাওয়ার পেছনেও তাদের সরাসরি দায়ী করেছেন। সেই কড়া সুরের জের ধরেই নতুন করে শুরু হয়েছে এই সাঁড়াশি অভিযান।

রোববারের এই মাঠপর্যায়ের অভিযানের ঠিক একদিন আগেই সরকারি নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তুরস্কের এক ডজনেরও বেশি এলজিবিটিকিউ সংগঠনের অ্যাকাউন্ট হুট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

turkey LGBTQ 03
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক এক্সে এক পোস্টের মাধ্যমে জানান, ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মসূচির আওতায় পুলিশ ও জেন্ডারমেরি যৌথভাবে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলসহ ১৫টি প্রদেশে ১৬২ জন সন্দেহভাজন, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একযোগে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ঘোষিত 'পরিবারের দশক' জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশু, পরিবারব্যবস্থা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

turkey LGBTQ 01
আঙ্কারা, ইস্তানম্বুল ও ইজমিরের কৌঁসুলিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে অন্তত ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে। ইস্তাম্বুলের বেশ কয়েকটি সমকামী বার, নাইটক্লাব এবং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত জায়গাগুলোতে পুলিশি অভিযানের ভিডিও সরকারি সমর্থক সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এমনকি পতিতাবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযুক্ত একটি পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী হাম্মামেও চলে তল্লাশি।

এদিকে দেশটির প্রথম সারির এলজিবিটিকিউ অধিকার সংগঠন 'কাওস জিএল' অভিযোগ করেছে, পুলিশ তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তাণ্ডব চালিয়েছে এবং শীর্ষ নেতাদের তুলে নিয়ে গেছে। সংস্থাটি জানায়, আঙ্কারার বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় 'অশ্লীল' কনটেন্ট ছড়ানোর ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছে। সব মিলিয়ে, তুরস্কে সরকারের এই অভূতপূর্ব কড়াকড়িতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।