আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিতে হাত মেলাল ব্রিটেনের তিন রাজ্য

যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সরকার প্রধানরা। সোমবার একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে এই তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টাররা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আগামীর সাংবিধানিক পরিবর্তনের রূপরেখা ও প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের পর স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও এসএনপি নেতা জন সুইনি, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও সিন ফেইন নেতা মিশেল ও'নিল এবং ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার ও প্ল্যাড কামরি নেতা রুন আপ ইওরওয়ার্থ যৌথভাবে এই ঘোষণাপত্রে সই করেন। ১৯৯৭ সালে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ বা 'ডিভোলিউশন' শুরুর পর এই প্রথম যুক্তরাজ্যভুক্ত তিনটি অঞ্চলেই এমন সরকারপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন, যারা সবাই যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন হতে চান।

Scotland, Northern Ireland, Wales 5
ঘোষণাপত্রে নেতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দৃশ্যপট দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং প্রতিটি জাতিরই গণতান্ত্রিক উপায়ে ও নিজ জনগণের ইচ্ছানুযায়ী নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। তারা যৌথ কণ্ঠে জানান, সেন্ট্রাল ব্রিটিশ সরকারের (ওয়েস্ট মিনস্টার) কোনো নৈতিক অধিকার নেই সাধারণ মানুষের এই গণতান্ত্রিক অধিকারকে রুখে দেওয়ার।

তিন অঞ্চলের সরকার প্রধানই একমত হয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ নিহিত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে। তাদের মতে, ব্রেক্সিট তাদের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধার পথ রুদ্ধ করেছে। ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বাসনের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। তিন নেতাই একবাক্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ওয়েস্টমিনস্টারের কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিন এখন শেষের পথে।

Scotland, Northern Ireland, Wales 4
এই যৌথ ঘোষণার ঠিক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ গঠনের পক্ষে দেওয়া বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আয়ারল্যান্ড সফরকালে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের একত্রিত হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়া এবং এই ঐতিহাসিক বিভাজনের অবসান হওয়া উচিত। উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নিল একে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আইরিশ একত্রীকরণ প্রক্রিয়া এখন বাস্তবায়নের একদম দোড়গোড়ায়।

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক পরিবর্তনের মুহূর্তে তিন দেশের যৌথ অংশীদারিত্ব ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে। ফলে জ্বালানি, অর্থনীতি এবং ইউরোপের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন আঞ্চলিক ঐক্য গড়ে উঠতে যাচ্ছে, যা যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতার ওপর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করল।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি