তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলের এক বিদ্যালয়ের বাইরে এক কিশোরের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফরাসি বার্তা সংস্থা- এএফপির তথ্যে মতে, মঙ্গলবার সকালে ম্যানিসা প্রদেশের তুরগুতলু এলাকায় প্রখ্যাত পর্যটন শহর ইজমিরের কাছে অবস্থিত এক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফটকের বাইরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি আতঙ্কিত অভিভাবকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছেন যে, হামলাকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তারর করতে সক্ষম হয়েছে এবং ঘটনার সঠিক তদন্তে তার বাবা-মা ও দাদাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, গুলির বিকট শব্দ শুনে ব্যালকনিতে গিয়ে তিনি এক রাগান্বিত কিশোরকে গালিগালাজ ও চিৎকার করতে করতে পাশের গলি দিয়ে হেঁটে যেতে দেখেন। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কিশোরটির হাতে একটি দীর্ঘ ব্যারেলযুক্ত শটগান বা রাইফেল থাকায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তাকে সাথে সাথে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কালো জিন্স ও সবুজ টি-শার্ট পরা এক তরুণ হাতে রাইফেল সদৃশ অস্ত্র নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের বেড়ার বাইরে দাঁড়িয়ে উন্মুখ জনতা ও আতঙ্কিত নারীদের আর্তচিৎকারের মধ্যে সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে মাটিতে আছড়ে ফেলে পুলিশ হেফাজতে নিচ্ছে। হামলার পরপরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের পাঠদান দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক আরও জানিয়েছেন, কীভাবে এই ক্ষতিকর মারণাস্ত্র একজন অপ্রাপ্তবয়স্কের হাতে পৌঁছাল, সেটি কার তত্ত্বাবধানে কীভাবে রাখা হয়েছিল এবং এই ঘটনার পেছনে পূর্বে কোনো র্যাগিং বা বুলিংয়ের মতো বিষয় জড়িত ছিল কি না, সব দিক খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। তু
রস্কে এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও চলতি বছরের এপ্রিলে পরপর দুদিন দুটি পৃথক বিদ্যালয়ে কিশোরদের বন্দুক হামলায় শিক্ষকসহ একাধিক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল, যা দেশজুড়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করে। সেই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়েপ এরদোয়ান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি সংস্কার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে পুলিশ কর্মকর্তা ও হাজার হাজার নিরাপত্তা পরিদর্শক মোতায়েন করলেও, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় আবারও এই রক্তক্ষয়ী হামলা স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি করেছে।