ট্রাম্পের আলটিমেটাম প্রত্যাখান, জেলেনস্কির পাল্টা শর্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা নির্দেশ এবং ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবির পর এবার নিজেদের কড়া ও স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, মস্কো যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর তাদের হামলা বন্ধ করে, তবেই ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আক্রমণ চালানো স্থগিত করতে প্রস্তুত। তবে এই ধরনের যে কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তব নিশ্চয়তা থাকা আবশ্যক।

শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনীয় হামলাকে দায়ী করেন। ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউক্রেনকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন কোনো নেতাকে দায়িত্বে আনার পরামর্শ দেন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে সক্ষম। মূলত আগামী মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে পেট্রোল ও ডিজেলের আকাশচুম্বী দাম ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Trump & Zelensky 3
রোববার ট্রাম্পের একতরফা বক্তব্যের জবাব না দিয়ে মূল সংকটের দিকে আলোকপাত করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউরোপে এই যুদ্ধের একমাত্র ও আসল অপরাধী হলো রাশিয়া। আজকেও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা সম্ভব, কিন্তু পুতিন তা চান না।

ট্রাম্পের সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ডিজেল আমদানি চুক্তির ঘোষণারও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। অনেক বাজার বিশ্লেষক ও মার্কিন আইনপ্রণেতা, যার মধ্যে ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি ডন বেকনও রয়েছেন, এই চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলার সময় এটি নয়, বরং নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা উচিত।

এদিকে, ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদের মাঝে। কিয়েভের অধিবাসীরা একে ট্রাম্প ও আমেরিকার পক্ষ থেকে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন। সাবিনা নামের ৪০ বছর বয়সী এক প্রাথমিক শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কী করতে হবে তা অন্য দেশের কেউ আমাদের বলে দিতে পারে না। সামরিক আইনের অধীনে যুদ্ধের সময় নির্বাচন অনুষ্ঠান করা আমাদের সংবিধানে নিষিদ্ধ, আর এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথা বলা অত্যন্ত অপমানজনক।

Trump & Zelensky 2
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করেছেন। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, সোমবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা অংশ নেবেন, যেখানে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স