মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও ইউক্রেনজুড়ে নিজেদের সামরিক অভিযান ও ধ্বংসাত্মক হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মাইকোলাইভ অভিমুখী সামরিক ও দ্বৈত ব্যবহারের মালামালবাহী একটি বড় জলযানে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
তবে জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন হামলার কোনো তথ্য উল্লেখ না করলেও ইউক্রেনের মূল সামরিক ও সরবরাহ শৃঙ্খলে আঘাত হানার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে মস্কো।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় সাঁড়াশি হামলা চালানো হয়েছে। কিয়েভের ‘পাল্প মিল প্রিন্ট’ সুবিধাকেন্দ্রে অবস্থিত একটি বিশেষ ওয়ার্কশপে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর দূরপাল্লার ড্রোন ও মিসাইল তৈরি ও সংযোজন করা হতো। একই সাথে কিয়েভের একটি রেল কারখানায় হেনেছে রুশ মিসাইল, যা ইউক্রেনীয় সেনাদের রসদ ও সরঞ্জাম বহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রেন ও ওয়াগন মেরামতে ব্যবহৃত হতো।
অন্যদিকে মাইকোলাইভ অঞ্চলেও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। টারনিভকা এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি কুরিয়ার নোভা পোশতার একটি প্রধান লজিস্টিক সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে, যা ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর দ্বৈত ব্যবহারের সরঞ্জাম সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া মেশকোভো-পোলোরেলোভে অবস্থিত ড্রোনের একটি বড় গুদাম ঘরেও সফল আঘাত হানা হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর হামলাটি ঘটেছে বুগ নদী বা খাঁড়িতে, যেখানে মাইকোলাইভ বন্দরের দিকে আগুয়ান সামরিক ও যুদ্ধ সরঞ্জাম বহনকারী একটি কার্গো জাহাজে সরাসরি আঘাত হানে রুশ মিসাইল। যদিও রয়টার্স এসব দাবির নিরপেক্ষ সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি, তবুও ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই সামরিক অবকাঠামো ও সরবরাহ লাইনে মস্কোর এই নজিরবিহীন আক্রমণ কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের চুক্তিকে আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াকাশার মুখে ফেলে দিল।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স