কিয়েভের ডজন বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২০০ রুশ ড্রোনের তাণ্ডব

রাশিয়ার নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে ইউক্রেন। মাসের পর মাস ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা, যার ফলে দেশটির অন্তত পাঁচ লাখেরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ হামলার বিষয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করে জানিয়েছেন, আক্রমণের আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা বা গোয়েন্দা তথ্য পায়নি কিয়েভ।

রাশিয়া সোমবার রাতভর কিয়েভ ও তার আশপাশের অঞ্চলে অন্তত ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পুরো ইউক্রেনজুড়ে ২০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। দেশটির পূর্বে খারকিভ ও দিনিপ্রো থেকে শুরু করে দক্ষিণে ওডেসা এবং পশ্চিমে ভলিন ও রিভনে অঞ্চল পর্যন্ত এই বিস্তার ছড়ায়। এ সময় রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা ও মূল ১০টিরও বেশি জ্বালানি কেন্দ্র মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় রাজধানী কিয়েভে এক নারী এবং শিল্পনগরী ক্রিভি রিহ-তে দুজনসহ মোট ৩ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

Rus Attack 01
মিত্রদের থেকে সময়মতো তথ্য না পাওয়া নিয়ে টেলিক্রম বার্তায় নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেন, রাতে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা একাধিক ধাপে এসেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এবারও সহযোগীদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়া হয়নি। যখন ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বন্ধ থাকে আর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা বিলম্বিত করা হয়, তখন আমাদের অংশীদারদের তরফ থেকে মূল বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিই স্পষ্ট হয়।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইউক্রেন রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সনাক্ত করে আসছিল। প্রথম আঘাত হানার সময় তথ্য সরবরাহ না থাকলেও দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে তথ্য প্রদান করা হয়েছে বলে জানায় ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত। তিনি বলেন, এর আগেও একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র তথ্য দিতে দেরি করেছে এবং বর্তমান বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। যদিও কিয়েভের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

Rus Attack 03
হামলা প্রসঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের সামরিক শিল্প কারখানা, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কেন্দ্র এবং ডেটা সেন্টার লক্ষ্য করে তারা এই "ব্যাপক হামলা" চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কি জানিয়েছেন, হামলা মূলত দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করতেই করা হয়েছিল। ফলে দেশজুড়ে গৃহস্থালি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা (লোডের শ্যাডিং) চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে রেলওয়ে স্টেশন, ওষুধের গুদাম ও আবাসন ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ২৪৭টি লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করতে পেরেছে, যার মধ্যে ৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৪৩টি ড্রোন রয়েছে।