ইউক্রেন সংঘাত অবসানে মার্কিন প্রশাসনের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে হামলার তীব্রতা এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাতে একদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত ২১টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে একযোগ ৬৩০টি ড্রোন ছুড়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে মস্কো। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও আশা প্রকাশ করেছেন, নভেম্বরের শুরুতেই গত ফেব্রুয়ারির পর প্রথম আলোচনা হতে পারে। ইতোমধ্যে দুই পক্ষই বেলারুশের মধ্যস্থতায় সেনাদের দেহাবশেষ হস্তান্তর করেছে; যেখানে মস্কো ২৫২টি এবং কিয়েভ ২৫টি মরদেহ হস্তান্তর করে।
তবে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ক্রেমলিন এখনও পুরোপুরি আশাবাদী নয়। ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, অসলোতে উইটকফের প্রস্তাবিত কিছু বিষয় রাশিয়ার শতভাগ শর্ত পূরণ করে না। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের বিনিময়ে ইউক্রেনকে ন্যাটোর পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার যে মার্কিন প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে ক্রেমলিনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। অন্যদিকে রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এলাকা ছেড়ে দেওয়া, সেনা সংখ্যা সীমিত করা এবং ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার স্থায়ী অঙ্গীকার ছাড়া যুদ্ধ থামবে না। কিয়েভ বরাবরই এসব শর্তকে আত্মসমর্পণের শামিল বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার চুক্তি ও কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর মধ্যেই বিশেষ দূত উইটকফ ৭৪ বছর বয়সী এক বন্দি মার্কিন নাগরিককে মুক্ত করায় পুতিনকে "মানবিক" বলে মন্তব্য করলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন—রাশিয়ার এই "মানবিকতার" কারণেই এক রাতেই কিয়েভে ২১টি ব্যালাস্টিক মিসাইল আঘাত হেনেছে, যার ফলে ২ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা বেশিরভাগ ইউক্রেনীয় ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে, তবে বেলগোরোদ সীমান্তে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অবকাঠামো ও সামরিক জাহাজে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স