আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় দুর্নীতি, তীব্র বেকারত্ব এবং নিম্নমানের শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও রবার বুলেট প্রয়োগ করেছে দেশটির দাঙ্গা পুলিশ। শনিবার মধ্য তিরানার রাজপথে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করার পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রধান ফটকে আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘাতময় রূপ নেয়।
চলতি মাসজুড়ে প্রধানত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন এই ক্ষোভ দাবানলের মতো রাজধানী থেকে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী এডি রামায়ের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবন, ব্যাংক ও দোকানে হামলা চালায়, কাচ ভাঙচুর করে এবং রাস্তার ইট-পাথর উপড়ে নিয়ে পুলিশের ওপর নিক্ষেপ করে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনরের অর্থায়নে উপকূলীয় অঞ্চলে বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিগত গ্রীষ্মকালে মাসের পর মাস ধরে যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই ছাত্র বিক্ষোভের সূত্রপাত। এটি ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ও গত বছর চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হওয়া প্রধানমন্ত্রী এডি রামায়ের জন্য এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে শহরের বিভিন্ন গলিতে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আন্দোলনে অংশ নেয়া ২৮ বছর বয়সী ড্যানিয়েল তাহিরি জানান, আলবেনিয়ার মানুষ অবশেষে জেগে উঠেছে। এই সরকার মূলত গণতন্ত্রের পোশাক পরা এক স্বৈরাচার।
২৯ বছর বয়সী আরেক আন্দোলনকারী অর্গেটা লিকাজ বলেন, দুর্নীতি ও একের পর এক কেলেঙ্কারির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ যে এডি রামাকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না, সেই বার্তা দিতেই সবাই আজ রাজপথে নেমে এসেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স