বালকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন ও ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জাতীয়তাবাদী ও জনপ্রিয়তাবাদী নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে অবশেষে নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছেন।
এই অভাবনীয় জয়ের মাধ্যমে দেশটির রাজনীতিতে অপ্রতিহত ভুচিচ যুগের অবসান ঘটাল তরুণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’।
রোববার অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এ নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণ ভুচিচ বলেন, এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি এবং স্টুডেন্ট লিস্ট জয়লাভ করেছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সার্বীয় পার্লামেন্টে তরুণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনপুষ্ট এই দলটি ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে যাচ্ছে। বিপরীতে, এতদিন ধরে দেশ শাসন করা ভুচিচের 'সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি' (এসএনএস) গুটিয়ে এসেছে মাত্র ১০৫টি আসনে।
পরাজয়ের খবর প্রচারিত হওয়ার পরপরই উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় রাজধানী বেলগ্রেড। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাসে ফেটে পড়েন। গাড়ি থেকে অনবরত বাজতে থাকে হর্ন, তরুণরা নাচ-গান ও বিজয়ের শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো।
বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের মুখপাত্র অধ্যাপক রাদোমির সাইচিচ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, প্রিয় সার্বিয়া, আজ রাতে জনগণের সত্যিকারের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। আজ রাতে আমরা বিজয় উদযাপন করছি, আর কাল থেকে গড়া হবে নতুন ভবিষ্যৎ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরের একটি ট্রেন স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের করুণ মৃত্যুর পর দুর্নীতি ও সরকারের ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল দেশটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
প্রায় দুই বছর ধরে চলা সেই নজিরবিহীন আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত ভুচিচকে সেপ্টেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন ডাকতে বাধ্য করে। আর সেই নির্বাচনেই ১৯৯২ সালে যুগোশ্লাভিয়া ভাঙনের পর থেকে রেকর্ড প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি তরুণদের এই অভাবনীয় বিজয়ের পথ সুগম করে দেয়।
এই জয়ে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন এবং হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মেগিয়ার তরুণদের এই ঐতিহাসিক অর্জনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে নতুন এই সরকার গঠনের পর সরকার প্রধান কে হবেন এবং রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ভারসাম্যমূলক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কীভাবে বজায় থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গভীর পর্যবেক্ষণ রাখছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স