স্পেনের মধ্যপ্রদেশ টলেডোতে দুটি উচ্চগতির ট্রেনের মর্মান্তিক সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। তবে, পশ্চিমা কয়েকটি গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, হতাহতের প্রকৃত চিত্র পেতে সময় লাগবে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ফলে রাজধানী মাদ্রিদের সঙ্গে সিউদাদ রিয়াল এবং আন্দালুসিয়ার সব রেল যোগাযোগ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
স্পেনের রেল অবকাঠামো অপারেটর ‘এডিআইএফ’ এই বড় ধরনের দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধোঁয়াশা থাকলেও, স্প্যানিশ পাবলিক ব্রডকাস্টার টিভিই জানিয়েছে, ট্রেন দুটি একই দিকে যাত্রা করছিলো। এ সময় একটি ট্রেন পেছন থেকে সজোরে অন্য ট্রেনটিকে ধাক্কা দিলে এই মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অন্তত দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী মাসে পুনর্নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া এই নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, টলেডোর এই গুরুতর ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনি সম্পূর্ণ স্তব্ধ ও মর্মাহত।
তিনি আরও লেখেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি সেবামূলক সংস্থাগুলো মাঠে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনের সঙ্গে আমি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং পরিবহনমন্ত্রী ও কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছি।
দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি উরদা শহরের মেয়র মানুয়েল গালান জানান, বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিভিল প্রোটেকশন থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে একটি স্পোর্টস প্যাভিলিয়ন প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন সেখানে উদ্ধারকৃতদের আশ্রয় দেওয়া যায়।
এছাড়া পাশের লস ইবেনেস গ্রামের মেয়র হেসুস পেরেজ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ জানিয়েছেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
স্পেনের দুঃসময়ে সমবেদনা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও। এক বার্তায় তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনার জন্য ইতালি সরকার স্পেন ও স্পেনের জনগণের পাশে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় ৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। তখন একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। ২০১৩ সালের পর সেটিই ছিল স্পেনের সবচেয়ে মারাত্মক রেল দুর্ঘটনা। সাম্প্রতিক এই নতুন ট্র্যাজেডি দেশটির সুবিশাল হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স-ফ্রেঞ্চ টোয়েন্টিফোর-ফার্স্টপোস্ট