ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিজিয়া অঞ্চলে মানবিক ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রাশিয়ার নৃশংস বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। চলতি বছরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
অঞ্চলটির সামরিক প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মাইখাইলো সেমিকিন জানান, কমিসুভাখা গ্রামের একটি সাবেক স্কুল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা এখনও টানা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক এই স্কুল ভবনটি মূলত স্থানীয় মানুষদের ত্রাণ বিতরণের কাজে ব্যবহার করা হতো। জাপোরিজিয়া আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সহ-প্রধান আইভান ফেদো রভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৯ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করে জানান, যখন সাধারণ মানুষ ত্রাণ সংগ্রহ করতে কমিসুভাখার ওই ভবনে জমা হয়েছিলেন, তখনই রুশ বাহিনী প্রথম দফায় আকাশ থেকে বোমা বর্ষণ করে। এরপর সাধারণ মানুষ যখন আশ্রয়ের জন্য ছুটছিলেন, তখন সেই আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করে আবারও বোমাহাংলা চালানো হয়। সীমান্ত ও যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি হওয়ায় স্কুলটিতে দীর্ঘদিন ধরেই পাঠদান বন্ধ ছিল। তবে প্রতি সোমবার এটি স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ও আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকারী দলের দুই সদস্য এবং চারজন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
অন্যদিকে, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, হামলাটি কমিসুভাখা ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং এতে প্রায় ২৫ জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষই অবশ্য বেসামরিক মানুষকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করে আসছে।
রাশিয়ার দখলে থাকা দক্ষিণ ইউক্রেনের ওলেশকি শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গঠিত ছয় দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পর এই মর্মান্তিক হামলাটি ঘটে। মেলানিয়া ট্রাম্পের এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, যার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেন।
এই চলমান সংঘাত নিরসন, যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তা চুক্তি এবং পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলকে এক টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।