পোল্যান্ডে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৯, আহত ১৭

পোল্যান্ডের অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাকোভের ঐতিহাসিক প্রধান চত্বরে এক পোলিশ বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ছয়জন। পরে পুলিশি অভিযানে ঘাতক গুলিবিদ্ধ ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বাড়ি থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে।

শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টার দিকে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। পোলিশ কর্তৃপক্ষের ধারণা, চরম উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ২৪ বছর বয়সী ওই বন্দুকধারী এই বর্বর গণহত্যা চালিয়েছে।

Poland Attack 04
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য মতে, সেনাপোশাক পরিহিত ওই তরুণ একটি কালো রঙের গাড়ি নিয়ে চত্বরে প্রবেশ করে এবং জানালা দিয়ে এআর-১৫ সামরিক শ্রেণির রাইফেল দিয়ে লোকজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এতে চত্বরে ঘুরে বেড়ানো পর্যটক ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দোকান ও রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেয়।

হামলার পর পুলিশ চত্বর থেকে চার নারী ও দুই পুরুষের লাশ উদ্ধার করে, যাদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া অস্ট্রিয়া, জার্মানি, পর্তুগাল, রাশিয়া ও ব্রিটেনের পাঁচ বিদেশি নাগরিক এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জন গুরুতর আহত হন।

Poland Attack 02
পরবর্তীতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক এক সংকটকালীন বৈঠকে জানান, ক্রাকোভ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অস্ত্রধারীর নিজ শহর ওস্ট্রোউইক শ্যুইতোশিস্কির বাড়িতে নিরাপত্তা ড্রোন পাঠিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে দুই নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে, যারা বন্দুকধারীর পরিবারের নিকটাত্মীয় বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিকট থেকে পাল্টা গুলি চালিয়ে আক্রমণকারীকে পরাস্ত করে। বন্দুকধারী বর্তমানে আশঙ্কাজনক কিন্তু স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারসিন কিয়েরউইনিস্কি জানান, পুলিশের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে আরও বড় ধরনের গণহত্যা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ২৪ বছর বয়সী ওই ঘাতকের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল এবং তার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

Poland Attack 01
পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোকির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় আগামী ৮ ও ৯ নভেম্বর দুই দিনের জাতীয় শোক পালন করা হবে।

নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত পোল্যান্ডে এমন নজিরবিহীন হামলায় ইউরোপজুড়ে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক ও ধাক্কা দেওয়ার মতো’ আখ্যা দিয়ে পোলিশ জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ইইউর ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, এই ট্র্যাজেডির ক্ষত পোল্যান্ডের সীমান্ত ছাড়িয়ে সুদূরপ্রসারী হবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স