পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের মক্কা নগরীর পানে রওনা হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে, সালাত ও মোনাজাতের নেতৃত্ব দেওয়া অবস্থাতেই জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন এক তুর্কি নাগরিক। তুরস্কের মধ্যাঞ্চলীয় কোনিয়া বিমানবন্দরে শুক্রবার ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সর্বত্র শোক ও আবেগের পরশ বুলিয়ে দিয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল্লাহ ওজকান (৬৮)। তিনি তুরস্কের কোনিয়া প্রদেশের বেইশেহির জেলার একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ ইমাম ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি একটি হজ ও ওমরাহ এজেন্সির স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন প্রায় ১৮০ জন ওমরাহ যাত্রীর একটি কাফেলার সঙ্গে মক্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তাঁর।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব ধরনের ভ্রমণ ও ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওমরাহ যাত্রীদের দলটিকে নিয়ে বিমানবন্দরে একত্রিত হন ওজকান। এ সময় তিনি পুরুষ হাজিদের জন্য নির্ধারিত ঐতিহ্যবাহী সাদা পোশাক ‘ইহরাম’ পরিহিত ছিলেন।
কাফেলার অন্যান্য যাত্রীদের নিয়ে বিদায়ী সালাত শেষে তিনি তালবিয়া (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক...) পাঠ করেন এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ শরীফ পাঠ শুরু করেন। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দরুদ পাঠের একেবারে শেষ মুহূর্তে হঠাৎ তাঁর কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় এবং তিনি সালাতরত অবস্থাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে দায়িত্বরত চিকিৎসাকর্মীরা দৌড়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা ও কার্ডিও পুলমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) প্রদান করেন। পরবর্তীতে দ্রুত তাঁকে সেলচুক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল ফ্যাকাল্টি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে তিনি হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
এক ওমরাহ যাত্রীর রেকর্ড করা ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ওজকান অত্যন্ত ভক্তিভরে দোয়া পরিচালনা করছিলেন এবং হঠাৎ লুটিয়ে পড়লে চারপাশে থাকা সহযাত্রীরা প্যানিক না করে উদ্ধার করতে ছুটে আসেন।
তাঁর সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর ধরে কাজ করা সহকর্মী ইসমাইল গুমুস জানান, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগে ওজকানের শারীরিক কোনো অসুস্থতা বা ক্লান্তি দেখা যায়নি। বেইশেহিরের ধর্মীয় প্রধান (মুফতি) এনেস আকতাস গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ওজকান ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত এক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব যিনি দীর্ঘদিন পরম নিষ্ঠার সঙ্গে সমাজের সেবা করেছেন।
শুক্রবার জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী চার্শি মসজিদে জুমার পর আবদুল্লাহ ওজকানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার, সহকর্মী, স্থানীয় ধর্মীয় কর্মকর্তা ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে অশ্রুসিক্ত নয়নে বেইশেহির কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। পবিত্র যাত্রার প্রাক্কালে ইহরাম পরিহিত অবস্থায় তাঁর এই প্রয়াণ স্থানীয় অধিবাসীদের মনে গভীর শোকের পাশাপাশি এক ঐশ্বরিক অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি-গালফ নিউজ