ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে ইসরাইলকে সহায়তা করায় জর্ডানে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ইরানের ছোড়া তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যাতে ইসরাইলে পৌঁছাতে না পারে সেই চেষ্টা করেছিল জর্ডান। গত শনিবার প্রথমবারের মতো ইসরাইলের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায় ইরান।
জর্ডান সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, আত্মরক্ষার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো (ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র) আমাদের জনগণ ও জনবহুল এলাকার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল। খবর ডয়চে ভেলে’র।
হুসেইন নামে জর্ডানের এক ব্যক্তি বলেন, জর্ডান যেভাবে ইসরাইলকে রক্ষা করেছে, তাতে আমি খুবই বিরক্ত। এখানকার অনেকেই এটা মেনে নিচ্ছেন না। আমরা ইরানকে সমর্থন করি না এবং গাজায় এখন যা ঘটছে, তার পেছনে ইরানের বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করি। কিন্তু গাজায় ইসরাইলের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে- এমন যেকোনো পদক্ষেপের সঙ্গে আমরা আছি।
মারিয়াম নামের আম্মানের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, জর্ডানে ইরানের জনপ্রিয়তা নেই। কিন্তু আমি ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানের বাধা দেওয়া ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া প্রত্যাখ্যান করি।
আম্মানের সামরিক বিশ্লেষক মাহমুদ রিদাসাদ বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, সেটিকে কখনো ইসরাইলকে রক্ষার জন্য করা হয়েছে, তেমনটা বলা যাবে না; বরং জর্ডানের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা রক্ষার জন্য করা হয়েছে। কারণ, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র কোথায় পড়বে, তা জানা যায় না।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশ্লেষক তাহানি মুস্তফা জানান, ইসরাইলে ইরানের হামলার ঘটনা নিয়ে জর্ডানের নাগরিকেরা বিভক্ত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে জর্ডানের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়ে মানুষ বিস্তারিত জানেন না। কারণ, এসব বিষয় নিয়ে এখানে বেশি লেখা হয় না।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জর্ডানের সংসদের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে সমালোচনা রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য, পরিবহন ও বিমান বাধা ছাড়াই জর্ডানে ঢুকতে ও ঘুরে বেড়াতে পারবে। গাজা নিয়ে আম্মানে বিক্ষোভ শুরুর পর অনেকে জর্ডান থেকে মার্কিনদের তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলতে শুরু করেন বলে জানান তাহানি মুস্তফা।
কয়েক সপ্তাহ ধরে আম্মানে ইসরাইলের দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে কয়েক হাজার স্থানীয় মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তারা ১৯৯৪ সালে ইসরাইল ও জর্ডানের মধ্যে সই হওয়া শান্তিচুক্তিও বাতিলেরও আহ্বান জানান।