গাজার গণকবর থেকে এখনো উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলিদের বর্বোরতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের উপখ্যানগুলো ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। গাজার খান ইউনিসের গণকবর থেকে বের হচ্ছে একের পর এক লাশ। এর মধ্যে কয়েকজনকে জীবিত কবর দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাশের খোঁজ মিলিছে সেই গণকবরে।

এই ঘটনায় কেঁপে উঠেছে বিশ্ব বিবেক। বলছে, ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে গণহত্যার যে অভিযোগ, সেই প্রমাণ দিচ্ছে এ গণকবর। ইসরাইলের সব অপকর্মের দোসর আমেরিকাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। তেল আবিরের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে হোয়াইট হাউস। নেতানিয়াহুর পদত্যাগ চেয়েছেন দেশটির রাজনীতিবিদরা।

গত শনিবারই গাজার খান ইউনিস শহরে খোঁজ মিলেছিলো গণকবরের। সেখান থেকে একের পর এক লাশ বেরিয়ে আসতে শুরু করে। বুধবার গণকবর থেকে আরও ৫১টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবারও নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্সের ওই গণকবর থেকে প্রায় ৩০০ জনের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম কার্যালয়ের মহাপরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বলেন, প্রায় ৩০ জন নিহতকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং বাকিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত খান ইউনিসের গণকবর থেকে কমপক্ষে ৩৩৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

খান ইউনিস শহর থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পরই গণকবরের খোঁজ মেলে। উদ্ধারকারীরা বেশকিছু মরদেহ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। তাদের জীবিত কবর দেয়া হয়েছিলো, নাকি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় তা জানা যায়নি। তবে বেশিরভাগ মরদেহ পচে গেছে।

গাজার আল নাসের হাসপাতালের গণকবরের কোলাহল, ধুলোবালি ও অসহনীয় দুর্গন্ধের মাঝে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শত শত স্বজন হারানো মানুষ। গণকবরের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছেন তারা। প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলো আশা করে আছে যে কবর থেকে উত্তোলন করা লাশগুলোর মাঝে তাদের খুঁজে পাবে।

বের হয়ে আসা মরদেহগুলো লাশগুলোকে দাফন করা বেশ জটিল ও বিপজ্জনক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু করবস্থানে কোনো জায়গাই খালি নেই। চলমান লড়াইয়ের কারণে অন্য কবরস্থানেও পৌঁছানোটাও অসম্ভব। এসব কারণে লাশগুলোকে হাসপাতাল চত্বরেই কবর দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মধ্যে কেউ ছিল কি না, তা দেখার জন্য তারা হাসপাতাল প্রাঙ্গণের কবরগুলো খুঁড়ে লাশগুলোকে বের করে পরীক্ষা করেছে এবং পরীক্ষা শেষে তাদের আবারও জায়গায় ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। জানুয়ারিতে একটি রায়ে তেল আবিবকে গণহত্যা বন্ধ এবং গাজার নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইল সেসব কিছুই মানেনি।

জাতিসংঘের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা ইসরাইলি হামলার ফলে গাজার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকার ৮৫ শতাং মানুষ খাদ্য, পানীয় জল এবং ওষুধের অভাবে জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উপত্যকায় এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪,২০০ জন নিহত হয়েছে। ৭৭,২০০ জন আহত হয়েছে।