যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য যৌথ হামলায় যদি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জরুরি পরিকল্পনায় পর্যায়ক্রমিক উত্তরাধিকার ব্যবস্থা এবং কমান্ড কাঠামোর একটি জরুরি ধারা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে দেশব্যাপী তীব্র বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকির মুখে খামেনি তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী আলী লারিজানিকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় দায়িত্বে নিয়ে এসেছেন। লারিজানি রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক কমান্ডার এবং একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। খামেনি কার্যত তাঁকে রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।
উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা, রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্য এবং সাবেক কূটনীতিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, লারিজানি বর্তমানে বিক্ষোভ দমন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংবেদনশীল পারমাণু কূটনীতি এবং রাশিয়া, কাতার ও ওমানের মতো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় ইরানের যুদ্ধকালীন পরিকল্পনাও তিনি তদারকি করছেন বলে জানা গেছে। খামেনি তাঁর অবর্তমানে বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক পদগুলোর জন্য একাধিক স্তরের উত্তরসূরি মনোনীত করেছেন এবং একটি ছোট ‘ইনার সার্কেল’ বা অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীর হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অর্পণ করেছেন।
যদিও লারিজানি একজন জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম নন, তাই তিনি সর্বোচ্চ নেতার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে নেই। তবে খামেনির সবচেয়ে বিশ্বস্ত ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ বা সংকটকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। লারিজানিকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে ইরানের আপতকালীন শাসন ব্যবস্থা।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ইরান বর্তমানে তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। ইরাক সীমান্ত এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে সামরিক মহড়া চালানো হচ্ছে। প্রকাশ্য বক্তব্যে খামেনি এখনো কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যে কোনো আক্রমণের মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে।