কুয়েতের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি নেটিজেদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতুহল আগ্রহের সৃষ্টি করেছ। ভিডিওটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিধ্বস্ত বিমানটি দেখতে অনেকটা মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ বা এর কোনো উন্নত সংস্করণ হতে পারে।
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি বড় ধরনের যান্ত্রিক বা বাহ্যিক বিপর্যয়ের পর বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চড়কির মতো ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড’ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
তবে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ইরানি হামলার সেই উত্তপ্ত সময়ে কুয়েতের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। স্বস্তির খবর হলো, প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাইলটরা বিমান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
এফ-১৫ ই ‘স্ট্রাইক ইগল’ মূলত একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা একই সাথে আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলা চালাতে সক্ষম। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই বিমানগুলো ঠিক কোন মিশনে নিয়োজিত ছিল তা স্পষ্ট নয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলো মাঝ আকাশেই ধ্বংস করার মতো ‘প্রতিরক্ষামূলক কাউন্টার এয়ার’ অভিযানেই এগুলো মূলত অংশ নিচ্ছিল। এই কাজে বিমানগুলো সাধারণত হিট-সিকিং মিসাইল, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি খুব কাছ থেকে লক্ষ্যভেদে স্বয়ংক্রিয় ‘গান’ বা লেজার-গাইডেড রকেট ব্যবহার করে থাকে।
ইরাক সীমান্তের কাছে ঘটা এই সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় বিমানটি শত্রুপক্ষের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে, না কি নিজেদের গোলায় ভুলবশত পড়েছে, সেটি এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যখন আকাশে বিপুল গোলা বারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের আনাগোনা থাকে, তখন এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।