ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের আগুন এবার আরও তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ল ইরাকের মাটিতে। শনিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলায় দূতাবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মিসাইলটি বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’-এর ভেতরে মার্কিন দূতাবাসের সীমানায় আঘাত হানে। বিশেষ করে দূতাবাসের ভেতর অবস্থিত একটি হেলিপ্যাড লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই দূতাবাসের চত্বর থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়, যার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদক মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ জানিয়েছেন, ইরাকের ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আগে থেকেই মার্কিন স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল। বিশেষ করে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে হত্যার প্রতিশোধ নিতেই তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার এই গোষ্ঠীগুলো চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন কূটনৈতিক কর্মকর্তার খোঁজ দিতে পারলে ১ লক্ষ ডলার পুরস্কার দেয়া হবে। এর ফলে অনেক মার্কিন কর্মী বর্তমানে নিরাপত্তার খাতিরে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শনিবারের এই হামলাটি ছিল গত দুদিনের মধ্যে দ্বিতীয় বড় আক্রমণ। কাকতালীয়ভাবে, দূতাবাসের এই হামলার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই ইরাকের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর ওপর দুটি হামলা চালানো হয়। সেখানে গোষ্ঠীটির একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ’ দুই সদস্য নিহত হন। ধারণা করা হচ্ছে, কাতায়েব হিজবুল্লাহর ওপর হামলার পাল্টা জবাব দিতেই দূতাবাসে এই মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরাক একটি ছায়া যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে ইরান-পন্থী গোষ্ঠীগুলো মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসে ড্রোন ও রকেট হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ওই গোষ্ঠীগুলোর গোপন আস্তানায় বোমা বর্ষণ করছে।
গত শুক্রবারই মার্কিন দূতাবাস ইরাকের জন্য ‘লেভেল-৪’ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল। সেই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল যে, ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো যেকোনো সময় মার্কিন নাগরিক ও স্বার্থের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। শনিবারের এই হামলা সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন।